রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলের আগে রাজনীতি ছাড়ছেন বলে জানিয়েছিলেন। ফলপ্রকাশের দিন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান, নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জানালেন, দেশ ছাড়ছেন!
বিধানসভা ভোটে হুমায়ুন রেজিনগর আসন জিতেছিলেন ৫৮ হাজারেরও বেশি ভোটে। উপনির্বাচনে তাঁর দল রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ৭৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি। পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন নওদার বিধায়ক। তিনি জানালেন, কেবল মুর্শিদাবাদ নয়, পশ্চিমবঙ্গও নয়, ভারতেই আর থাকবেন না। তবে যাওয়ার আগে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি করে দিয়েই যাবেন।
রেজিনগরে হুমায়ুনের দলের প্রার্থী গোলাম নবি আজ়াদ। তিনি হুমায়ুনের পুত্র। ভোটের পর ছেলেকেই ‘গদ্দার’ বলেছেন। ফলপ্রকাশের দিন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান জানালেন, তিনি মানসিক ভাবে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। এমন রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আর লড়াই করার জোর নেই তাঁর। যে ক’টা দিন বেঁচে থাকবেন, গোল্ডেন ভিসা নিয়ে স্থায়ী ভাবে দুবাইতেই থাকবেন। শান্তিতে খাবেন, ঘুরবেন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে কবরস্থ যেন সেখানেই করা হয় তাঁকে, সেই ব্যবস্থা করে যাবেন। প্রবীণ রাজনীতিক বলেন, ‘‘আমি ছোটবেলা থেকে অন্যায় বরদাস্ত করিনি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বড় হয়েছি। এখন আমি ৬৪। আগামী ২৯ তারিখ ৬৫ পূর্ণ হবে। জীবনের শেষ দিনগুলো দুবাইয়ে শান্তিতে কাটাতে চাই। সেখানে গিয়ে খাব-দাব, ঘুরব, সমুদ্রের হাওয়া খাব আর সেখানেই কবরস্থ হব, এটাই ঠিক করেছি।’’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘এত অবিচারকারী আর জুলুমকারীদের সঙ্গে আমার আর পোষাবে না। এদের সঙ্গে কোনও সংঘর্ষে যাওয়া এখন আর আমার পক্ষে সম্ভব নয়। একসময় অনেক মনোবল ছিল। শক্তিশালী মানসিকতা নিয়ে ন্যায়ের পক্ষে লড়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’’
রেজিনগরে উপনির্বাচন নিয়ে আবার প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, একটি বিধানসভা দখল করবে বলে শাসকদল গত দু’মাস ধরে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। গত দু’মাসে তাঁর অনুগামী তথা দলের নেতা-কর্মী সমেত অন্তত ৬৪ জনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তা ছাড়া মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর মতো ‘কেস দেওয়া’ হয়েছে। এমনকি, ২০২২ সালের পুরনো মামলা তুলে এনে এখন ফাঁসানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার আগে নিজের কাঁধে নেওয়া একটি অসমাপ্ত দায়িত্ব পূরণ করতে চান হুমায়ুন। ‘বিতর্কিত’ মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করা। তিনি বলেন, ‘‘মসজিদ কমপ্লিট করে তবেই যাব। তার পর যদি বেঁচে থাকি, তবে দুবাই পাড়ি দেব। ওই মসজিদের প্রতি দায়বদ্ধতা আমি নিজেই নিজের কাঁধে নিয়েছি এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছি। বাংলার মানুষ ও মুসলিম ভাইদের সহায়তায় কাজ এগিয়ে চলছে।’’ মসজিদ তৈরিতে অনুদান নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে হুমায়ুনের দাবি, ‘‘সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত সাহায্যের পরিমাণ ১০ কোটি টাকার নীচে। অথচ বাইরে ৫০০ কোটি বা ৭০০ কোটির ভিত্তিহীন গল্প ছড়ানো হয়েছে। সংগৃহীত অর্থেই জমির বন্দোবস্ত, প্ল্যান ও এস্টিমেট সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজে দু’কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে।’’ তিনি জানান, ওই অঙ্গীকার পূরণ করে রাজনীতি এবং দেশ থেকে বিদায় নেবেন।