ডোমকলের বিডিও শঙ্খদীপ দাসকে বদলি করল জেলা প্রশাসন। তাঁর জায়গায় ডোমকলের নতুন বিডিও করা হল সুদীপ্ত অধিকারীকে। তিনি মুর্শিদাবাদের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। অন্য দিকে, শঙ্খদীপকে এসডিও অফিসে (সদর) পাঠানো হয়েছে। তাঁর বদলি নিয়ে জেলা প্রশাসনে প্রশ্ন উঠছে। পঞ্চায়েত প্রধানকে ‘কাটমানি’ নেওয়ার পরমার্শ দেওয়ার অডিয়ো ভাইরাল হতেই কি এই পদক্ষেপ?
ভাইরাল হওয়া অডিয়োটি মুর্শিদাবাদের ডোমকল ব্লকের গড়াইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাসানুজ্জামান মণ্ডলের সঙ্গে বিডিও শঙ্খদীপের কথোপকথনের বলে দাবি। যদিও এই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ওই অডিয়োয় এক জনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘টাকা লেনদেন না-করেই তো ভুল করছেন আপনি। টাকা কামান। কাজ করে টাকা কামান।’’ ওই একই ব্যক্তিকে নানা উদাহরণ দিতেও শোনা যায়। সিপিএম জমানার কথাও বলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘অহেতুক নিজেদের জাহির না-করে নিয়ম মেনে কাজ করা উচিত।’’
অপর কণ্ঠটি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে টাকা লেনদেনের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। জবাবে অপর ব্যক্তি বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত প্রধানেরা কত ভাতা পান? টাকা রোজগার করতে গেলে কাজ নামাতে হবে।’’ ওই ব্যক্তির পরামর্শ, প্রয়োজনে ঠিকাদারকে ডেকে নিজের পাওনা বুঝে নিয়ে ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ দিন। দাবি, প্রথম ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বিডিও শঙ্খদীপের আর দ্বিতীয় কণ্ঠস্বরটি পঞ্চায়েত প্রধান হাসানুজ্জামানের। তবে এই অডিয়ো কবেকার, কোন প্রেক্ষিতে কথোপকথন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
অডিয়োটি ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। যদিও শঙ্খদীপের দাবি, হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। এক ঠিকাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখে তিনি এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান শঙ্খদীপ। অন্য দিকে, বিডিও-র বিরুদ্ধে ‘কু-পরামর্শ’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন হাসানুজ্জামান। তাঁর বক্তব্য, ‘‘নিম্নমানের কাজ হয়েছে, তা সত্ত্বেও বিভিন্ন এজেন্সিকে বিল পরিশোধ করে দেওয়ার জন্য বিডিও আমাকে চাপ দিচ্ছিলেন। সরাসরি কাটমানি নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন।’’ হাসানুজ্জামানের দাবি, তিনি বিডিও-র নির্দেশ মানেননি, তাই তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার শুরু হতেই বদলি হলেন শঙ্খদীপ। তবে তাঁর এই বদলির নেপথ্যে ভাইরাল অডিয়ো কারণ কি না, তা স্পষ্ট নয়। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, বিতর্ক এড়াতেই রাতারাতি ডোমকলের বিডিও-কে সরিয়ে দিয়ে থাকতে পারে জেলা প্রশাসন।