সন্তানকে কাছে পাওয়ার আকুলতা এবং স্ত্রীকে আবার বাড়িতে ফেরানোর আশাই ‘কাল’ হল! সন্তানের সঙ্গে দেখানোর নাম করে প্রেমিকের সাহায্য নিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকার ঘটনা।
গত দু’দিন ধরে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন ৪৩ বছরের তপন। রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ঠান্ডা পানীয়ে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল তপনকে। সেই পানীয় দিয়েছিলেন তপনের স্ত্রী।
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে খবর, বছর কুড়ি আগে শান্তিপুরের বাগচীর বাগান এলাকার বাসিন্দা তপনের বিয়ে হয় হরিপুরের মনিকা দাসের সঙ্গে। দম্পতির ১৩ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি তারক নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান মনিকা। তার পর সংসার ছেড়ে সন্তানকে নিয়ে প্রেমিকের কাছে চলে গিয়েছিলেন। প্রায় আট মাস ওই ভাবে চলছে।
তপনের পরিবারের দাবি, কিছু দিন আগে মনিকা স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জানান সন্তানকে নিয়ে আবার সংসারে ফিরতে চান তিনি। সন্তানও বাবাকে দেখতে চাইছে বলে খবর পাঠান। তারিখ ঠিক হয়। কিছু জরুরি কাগজপত্র নেওয়া এবং সন্তানকে দেখানোর নাম করে তপনকে নিজের বাপের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মনিকা।
স্ত্রীর কথায় বিশ্বাস করে দিন কয়েক আগে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন তপন। অভিযোগ, সেখানে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল দম্পতির। তবে শ্বশুরবাড়িতে মিষ্টি এবং ঠান্ডা পানীয় দিয়ে আতিথেয়তাও করা হয়েছিল জামাইকে।
তপন বাড়ি ফিরেছিলেন বিষণ্ণমনে। তার পর শারীরিক ভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের লোকজন তাঁকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, খাবারে বিষক্রিয়া থেকে তপন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তপনের কথায় তাঁদের ঘোর সন্দেহ পানীয়তেই বিষ মেশানো হয়েছিল। এবং প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই কাজ করেছেন তপনের স্ত্রী। ওই মর্মে তপনের পরিবার বৌমা এবং তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য দেহ উদ্ধার করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। তবে অভিযুক্তদের খোঁজ মেলেনি বলেই খবর।