তৃণমূলের জুব্বার শেখ যদি কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমানকে খুনের ছক কষেও থাকে, তা বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা কি কৃষ্ণনগর আদালতের মুহুরি সাহেব আলি মণ্ডলই নিয়েছিল? তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সেই সম্ভাবনা স্পষ্ট হচ্ছে বলে দাবি তদন্তকারীদের একাংশের। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় ‘বাহুবলী’ রাজনীতির অন্যতম মুখ সাহেব আদালতের মহুরি হলেও বেআইনি অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগের বিষয়ে অনেকেই জানত। তৃণমূল নেতা হওয়ায় এতদিন পুলিশ-প্রশাসন জেনেও না জানার ভাব করত বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। সাহেবের কাছ থেকে তার দু’টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই আগ্নেয়াস্ত্র দু’টি খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের একটা সূত্রের দাবি, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসা এবং অপরাধ জগতের সঙ্গে সাহেবের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। ফলে একাধিক উন্নত মানের এমনকী স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ‘শুটার’ জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ পরিবারের দাবি, আনিসুরের গায়ে ১৩টি এবং তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানের দেহে ১৪টি গুলি লেগেছিল। পুলিশ নির্দিষ্ট করে গুলির সংখ্যা না বললেও তাঁদের গায়ে একাধিক গুলি লাগার কথা তারাও স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সাহেব প্রথমে সিপিএমের সক্রিয় কর্মী ছিল। তখন থেকেই জুব্বারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তারা তৃণমূলে ভিড়ে যায়। পরে সে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানায়। তা নাকচ হয়ে গেলে সে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং আদালতের নির্দেশেই তাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর পর সে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল কেনে। পরে, ২০১৮ সালে সেই লাইসেন্সের সুবাদেই সে একটি ১২ বোরের বন্দুক কেনে। পরের বছর ফের একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনার অনুমতি চায় সে এবং একটি সিঙ্গল ব্যারেল ব্রিজ লোডিং গান কেনে। কিন্তু লাইসেন্স বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকা আধিকারিক রাকেশ টোপ্পো দেখেন, সাহেবের তৃতীয় আগ্নেয়াস্ত্র কেনার অনুমতিপত্রে তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তিনি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের করণিক রাজেশ রায়কে গ্রেফতার করে। সেই সঙ্গেই তৃতীয় আগ্নেয়াস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
প্রশ্ন হল: আনিসুর ও তাঁর ছেলেকে খুন করতে কি সাহেবের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র দু’টিও ব্যবহার করা হয়েছিল? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি গুলি ও গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, সাহেবের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সম্ভবনা কম, কারণ সে ক্ষেত্রে ধরা পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। সাহেবের পক্ষে যখন বেআইনি অগ্নেয়াস্ত্র বা ‘সুপারি কিলার’ জোগাড় করা একেবারেই কঠিন ছিল না, এই ভুল করবে বলে তাঁরা মনে করছেন না। ফরেন্সিক রিপোর্ট আসার পরে বিষয়টি আর স্পষ্ট হবে।