বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের মামলায় ধৃত তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রবীর দাসের শ্বশুরবাড়িতে এ বার হানা দিল পুলিশ। প্রবীরের কর্মক্ষেত্র ছিল বীরভূম। তাঁর শ্বশুরবাড়ি মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে। বীরভূম জেলা পুলিশ ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে বহরমপুর থানা এলাকার ইন্দ্রপ্রস্থে প্রবীরের শ্বশুরবাড়িতে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশি অভিযান শেষে পুলিশ একটি কালো ব্যাগ নিয়ে বার হয়। কী রয়েছে ওই ব্যাগে, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রবীর পেশায় মহম্মদবাজার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে করণিক পদে কর্মরত ছিলেন। সরকারি চেকপোস্টে ডিআরসি কাটার রস্টার তৈরির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে টুলুর কাছ থেকে প্রতি দিন মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করতেন প্রবীর। ওই বেআইনি আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন প্রবীর।
প্রবীরের শ্বশুরবাড়িতে কেন হানা পুলিশের? সূত্রের খবর, টুলুর সঙ্গে প্রবীরের কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন এবং সেই টাকার উৎস, পরে তা কোথায় স্থানান্তর করা হত, সেই সূত্র খুঁজতেই এই তল্লাশি। তদন্তকারীদের অনুমান, বেআইনি উপার্জনের একটি বড় অংশ নিজের শ্বশুরবাড়িতে বা আত্মীয়দের নামে রাখতেন প্রবীর।
দীর্ঘ তিন ঘণ্টার জেরার পর প্রবীরের শ্বশুরবাড়ি থেকে একটি কালো ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্যাগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে। তবে ওই নথিগুলি কিসের, তা খোলসা করেনি পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রে দাবি, ওই নথি যাচাই করে টুলুর সাম্রাজ্যের আরও হদিস মিলতে পারে।
আরও পড়ুন:
এই মামলার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে যেমন রয়েছেন টুলুর আত্মীয়, তেমনই রয়েছেন তাঁর ম্যানেজার এবং ঘনিষ্ঠেরা। তবে টুলু এখনও অধরা। এই মামলার তদন্তে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন টুলু। তাঁর আইনজীবী দুষ্যন্ত দাভে মামলাটি করেছিলেন। তবে সেই মামলা খারিজ করে দেয় আদালত। পুলিশি তদন্তে হস্তক্ষেপ করল না বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। সেই আবহে তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল পুলিশ।