মুর্শিদাবাদের রেলের পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ রেলের নানা প্রকল্প নিয়ে লোকসভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। দেশ ও রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদে রেল কী কী কাজ করেছে, কী কী কাজ চলছে এবং কী কী কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য সহ জবাব দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বুধবার প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সে কথা জানানো হয়েছে।
তাঁরা বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, রেলমন্ত্রী সাংসদ ইউসুফ পাঠানের জবাবে জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদে একাধিক রেল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। একই সঙ্গে জেলার ২৭ টি রোড ওভারব্রিজ এবং রোড আন্ডার ব্রিজ প্রকল্প বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
রেলমন্ত্রী জানান, রেল প্রকল্প জেলা বা রাজ্যভিত্তিক নয়, সংশ্লিষ্ট রেল জোনের পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হয়। মুর্শিদাবাদ এলাকায় সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে আজিমগঞ্জ-মুর্শিদাবাদ নতুন রেললাইন, লালগোলা-জিয়াগঞ্জ, আজিমগঞ্জ-মনিগ্রাম, বাজারসৌ-আজিমগঞ্জ, নলহাটি-সাগরদিঘি, মনিগ্রাম-নিমতিতা এবং আজিমগঞ্জ-সাগরদিঘি ডাবল লাইনের কাজ। রেলমন্ত্রী দাবি করেছেন, ২০০৯-২০১৪ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল বাজেটে ৪৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। আর ২০১৪-২৭ সাল পর্যন্ত রেল বাজেটে এরাজ্যের জন্য ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
লোকসভায় রেলমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৬৩টি রেল প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ৫,১৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পগুলির আনুমানিক ব্যায় ৮৩,৪৩৩ কোটি টাকা। গুমানি-নিউ ফারাক্কা-মালদহ টাউন অংশে তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন এবং গঙ্গার উপর চার লাইনের রেলসেতু নির্মাণের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক দফতরের অনুমোদন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী বলেছেন, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ, বহরমপুর কোর্ট, ধুলিয়ান গঙ্গা, জঙ্গিপুর রোড, খাগড়াঘাট রোড এবং নিউ ফারাক্কা জংশন স্টেশনের উন্নয়নের কাজ চলছে। কোথাও নতুন স্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম শেড, অপেক্ষা কক্ষ ও পার্কিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে, আবার কোথাও নির্মাণ চলছে।
বেলডাঙার এবং রেজিনগরের রোড ওভারব্রিজ নির্মাণের বিষয়েও লোকসভায় তথ্য দেন রেলমন্ত্রী। তিনি জানান, বেলডাঙার রোড ওভার ব্রিজের জন্য বিস্তারিত ব্যয়ের হিসাব তৈরির কাজ চলছে। রেজিনগরে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়ে নির্মাণ শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদে মোট ২৭টি রোড ওভার ব্রিজ এবং রোড আন্ডার ব্রিজ প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে, যার আনুমানিক ব্যয় ৪২৮ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন সরকারি ছাড়পত্র ও অন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে সময় লাগলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।