E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কুঁয়ের জলস্ফীতিতে ডুবে গেল ছ’হাজার হেক্টর জমি 

শনিবার পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে বড়ঞার বিধায়ক বিজেপির সুখেন বাগদি বলেন, ‘‘ধীর গতিতে জল বেড়েই চলেছে, কৃষিকাজের উপরে নির্ভর করেন এলাকার মানুষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২৫
প্লাবনে বানভাসি বড়ঞার সোনাভাড়ই গ্রাম। শনিবার।

প্লাবনে বানভাসি বড়ঞার সোনাভাড়ই গ্রাম। শনিবার। ছবি: কৌশিক সাহা

নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। তবে এলাকায় সেই ভাবে বৃষ্টিপাত না হলেও বীরভূম থেকে বয়ে আসা কোপাই নদীর জলস্ফীতির জেরে ডুবেছে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি। কোপাইয়ের স্থানীয় নাম কুঁয়ে।

জলবন্দি হয়েছে প্রায় পনেরোটি পরিবার। ঘটনাটি বড়ঞা ব্লকের সুন্দরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জাঁওহাড়ি, ভড়ঞা, সোনাভাড়ই, তারাপুর, বৈদ্যনাথপুর, মামদপুর, মারুট গ্রামগুলি কোপাই নদীর জলস্ফীতির জেরে জলমগ্ন হয়েছে। তবে এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের রাস্তায় জলে ডুবে না যাওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হয়নি।

শনিবার পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে বড়ঞার বিধায়ক বিজেপির সুখেন বাগদি বলেন, ‘‘ধীর গতিতে জল বেড়েই চলেছে, কৃষিকাজের উপরে নির্ভর করেন এলাকার মানুষ। এই অবস্থায় ধানগাছে কয়েক দিন পরেই ফুল আসবে। এমন সময় ধানের জমি ডুবে গিয়েছে। চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। আমি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনব।’’

শুক্রবার ভোর থেকেই নদীর জলস্ফীতির কারণে এলাকার প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমির ধান জলের তলায় চলে গিয়েছে। বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নাজমা খাতুন বলেন, ‘‘সব থেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে ধান খেতের। কয়েকটি বাড়ি জলবন্দি অবস্থায় আছে। আমরা বিষয়টি নজরে রাখছি। এখনও ত্রাণ শিবির করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’’

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিকাশ ঘোষ, বুদ্ধদেব ঘোষরা বলেন, ‘‘প্রতি বছর কোপাই নদীর জলস্ফীতির কারণে আমন ধানের ক্ষতি হয়। অন্য বছর ধান রোপণ করার সময় খেত জলে ডুবে থাকে। এ বার হাজার হাজার টাকা খরচ করে ধান রোপণ করার পরে খেত জলে ডুবে গেল।’’

এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের প্রতিনিধি সামান উল্লার দাবি, ‘‘কোপাই নদীর বাঁধ না থাকার কারণে প্রতি বছর এলাকায় বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, এ বারও তার অন্যথা হয়নি। এলাকার মানুষ শস্য বিমা করছেন কিন্তু বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না।’’

এ দিন এলাকার পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন মুর্শিদাবাদ পুলিশ-জেলার সুপার সচিন মক্কার। পুলিশ সুপার সচিন বলেন, ‘‘বসতি এলাকার থেকে ধান খেতের ক্ষতির পরিমাণ বেশি। আমি জেলা শাসককে বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট দেব।’’ জল যে ভাবে বাড়ছে তাতে গ্রামগুলির যাতায়াতের এক মাত্র রাস্তা জলে ডুবে গেলে সেক্ষেত্রে এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য বোটের ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান পুলিশ সুপার সচিন মক্কার।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Murshidabad

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy