কথায় বলে, ‘চুরি করা মহাপুণ্য, যদি না পড়ে ধরা’। কিন্তু নদিয়ার চোর রাকেশ গোস্বামীর আর সেই ‘পুণ্য’ অর্জন হল না। আগের বার চুরি করতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ বার চুরি করে বার হতে গিয়ে শাটার চাপা পড়লেন! হুলস্থুল নাকিশাপাড়া পাড়ার বেথুয়াডহরিতে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বাড়ি কৃষ্ণনগরের বারুইহুদা এলাকায়। বেথুয়াডহরিতে একটি দোকানের শাটারের তলায় চাপা পড়েছিলেন তিনি। স্থানীয়েরা উদ্ধার করে থানায় খবর দেন। এর মধ্যে চোরের শাটার চাপা পড়ার দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন কেউ কেউ। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি রবিবার রাতের। বেথুয়াডহরির নিচুবাজার এলাকায় একটি সাইকেলের দোকানে চুরির উদ্দেশে ঢুকেছিলেন রাকেশ। রাতের অন্ধকারে দোকানের ছাদ টপকে অনায়াসেই ভিতরে ঢুকেছিলেন তিনি। কিন্তু বার হওয়ার সময় ‘বিপত্তি’। শাবল দিয়ে শাটার তুলে শরীরের ঊর্ধ্বাংশ বাইরে বার করেছেন, ঠিক তখনই শাটারটি ঘড়ঘড় করে নেমে যায়।
সোমবার সকালে দোকান খুলতে গিয়ে দোকানি দেখেন দোকান আগে থেকেই খোলা। আর তার তলায় এক যুবক কাতরাচ্ছেন। কী হয়েছে বুঝতে দেরি হয়নি তাঁর। তিনি লোক জড়ো করেন। খবর দেন নাকাশিপাড়া থানায়। শেষমেশ পুলিশের হাতে পাকড়াও হয়েছেন চোর।
রাকেশ নেহাত কাঁচা চোর নন। অতীতে বেশ কয়েকটি চুরির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত বছর অক্টোবরে নদিয়ায় একটি বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকেছিলেন। বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তার পর তিন দিন সেই বাড়িতেই ছিলেন রাকেশ। ফ্রিজ খুলে রান্না করা খাবার বার করে খেয়েছেন। শৌচাগারে স্নান করেছেন। বৈঠকখানায় আরাম করে টিভি দেখেছেন।
আরও পড়ুন:
কিন্তু সেখানেও ‘টাইমিং’-এ গন্ডগোল। বাড়ির লোকজন ঘরে ঢুকে দেখেন এক অচেনা যুবক বিছানায় অঘোরে ঘুমোচ্ছেন! বাড়ির কর্তা হকচকিয়ে গিয়ে পাড়া মাথায় করেন। সে বারও পুলিশের হাতে ধরা পড়েন রাকেশ। পরে আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পান। আবার পুরনো কাজেই ফিরেছেন রাকেশ। কিন্তু এ বারও ‘বিধি বাম’!