সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে লোকসভার সচিবালয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পঞ্চম বারের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানালেন এনসিপিআই-এর বেশির ভাগ সদস্য। এর আগের বার ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, তার মধ্যে দলের জনা চারেক প্রবীণ সাংসদ তাঁদের উত্তর পাঠিয়ে দিয়েছেন স্পিকারের দফতরে। গত কাল স্পিকারের অফিস থেকে এনসিপিআই-কে বলা হয়, বাকিরা কবে উত্তর জমা দেবেন তা জানানো হোক। সূত্রের খবর, তার উত্তরে নভেম্বরের ২৪ তারিখ অর্থাৎ আরও তিন সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে স্পিকারের কাছে।
উল্লেখ্য, এই বিশ জনের সাংসদ পদ খারিজের জন্য গত ১৮ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক পৃথক পিটিশন দিয়েছিলেন তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার কোনও সিদ্ধান্তও নেননি, আবার ওই ২০ জনকে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবেও স্বীকৃতি দেননি। স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিলম্বের কারণে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। ২৫ অগস্ট ওই কুড়ি জনকে নোটিস দেয় সুপ্রিম কোর্ট। লোকসভার স্পিকার ও সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়। তার পরেই স্পিকারের তরফে ওই সাংসদদের নোটিস পাঠিয়ে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।
কিন্তু ২২ সেপ্টেম্বর সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আরও এক মাস সময় চান সুদীপ-কাকলিরা। সেই সময় বাড়তে বাড়তে আপাতত দাঁড়াল ২৪ নভেম্বর। অবশ্য খাতায়কলমে স্পিকার এখনও এই বাড়তি সময় মঞ্জুর করেননি। তিনি বর্তমানে তিরুঅনন্তপুরমে রয়েছেন। তাঁর সচিবালয় থেকে বলা হয়েছে, এনসিপিই সাংসদরা আরও সময় চেয়েছেন। তাঁদের যুক্তি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, যত দিন না লোকসভার পুনর্বিন্যাস বিলটিকে আনার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছচ্ছে মোদী সরকার (অর্থাৎ ভোটাভুটিতে ডিএমকে-র সমর্থন আদায় না করতে পারছে) তত দিন এ ভাবেই সময় বাড়িয়ে যাওয়া হতে পারে এনসিপিআই-এর জন্য। তত দিন তাদের স্বীকৃতিও সে ক্ষেত্রে ঝুলে থাকবে।
আজ কিছুটা ব্যঙ্গ করে সদ্য নথিভুক্ত হওয়া ‘অরুণাচল জনতা পার্টি’র বিজ্ঞাপন পোস্ট করে কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ লিখেছেন, “এটা নিশ্চয়ই স্বঘোষিত চাণক্যের কাজ! যিনি অজানা এনসিপিআই-কে জাগিয়ে তুলে সেখানে তৃণমূলের দলত্যাগীদের গুঁজেছিলেন। দেশে এমন ৭৩৪টি নথিভুক্ত অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল রয়েছে, ২০২৪/২৫ সালে যাদের রোজগার ১১০০ কোটি টাকা বলে শোনা যায়। এই টাকার অর্ধেক শুধুমাত্র গুজরাতের ২৯টি দলের।”