এনসিপিআই-এর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিরোধীদের চাপে এতটাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে রয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, যে অন্য দিকে তাকানোর সময় নেই। পাশাপাশি, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত যে বিলে ভোট দেওয়ানোর জন্য এনসিপিআই-এর সৃষ্টি বলে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সেটিও এখন বিশ বাঁও জলে। এই অবস্থায় গত ৩ তারিখে কলকাতায় ব্রাজ়িল বনাম ভারতের প্রদর্শনী ম্যাচ দেখে কিছুটা স্বস্তি পেতে চেয়েছিল এনসিপিআই-এর ব্রাজ়িলপ্রেমী মন। কিন্তু রাজ্য সরকারের থেকে আসা সেই ম্যাচের বরাদ্দ টিকিট সংগ্রহ নিয়ে টানাপড়েনের জেরে এনসিপিআই-এর সংসারে ঘোর অসুখ, এমনটাই দাবি রাজনৈতিক মহলের।
বিষয়টি সামান্য, কিন্তু বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সেই সামান্যতেই মনে দাগা লেগেছে এনসিপিআই-এর কিছু ব্রাজ়িলপ্রেমীর। সূত্রের খবর, রাজ্যের পক্ষ থেকে এনসিপিআই-এর জন্য টিকিট দেওয়া হয়েছিল দলের এক বর্ষীয়ান নেত্রীকে। কিন্তু সহজগম্য দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর বাড়িতে না-রেখে তিনি ওই টিকিট রেখেছিলেন কলকাতা থেকে দূরে উত্তর ২৪ পরগনায়। ম্যাচের ঠিক আগে সেখান থেকে সাংসদদের টিকিট সংগ্রহ করে নিতে বলেন তিনি। সূত্রের দাবি, বিষয়টিতে অপমানিত এবং বিরক্ত হন বেশ কয়েক জন সাংসদ। কেউ কেউ ওয়টস্যাপ গ্রুপ থেকেও বেরিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি। সেই নেত্রীর ঝাঁঝালো আচরণ নিয়েও আপত্তি তুলেছেন এনসিপিআই-এর কেউ কেউ। তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের কথায়, “এনসিপিআই যে অসুখী সংসার, তা দেখেই বোঝা যায়। লোভের বশবর্তী হয়ে নীতিভঙ্গ করলে যে দশা হয়, তা-ই হয়েছে। তা ছাড়া বিজেপি নেতৃত্বও বুঝে গিয়েছেন, ওদের কোনও মূল্য নেই আর। সামান্য কিছু ভাগ করে দিলেই চলবে। ব্রাজ়িল ম্যাচের টিকিট এমনই একটি বিষয়।”
গত মাসের শেষে সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে আরও এক মাস সময় চেয়েছিলেন এনসিপিআই-এর কুড়ি সাংসদ। স্পিকারের তরফে বলা হয়েছিল, ৮ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দিতে হবে। কাল সেই তারিখ। সূত্রের খবর, আজ গভীর রাত পর্যন্ত এনসিপিআই-এর আইনজীবীরা চিঠির জবাব তৈরি করেছেন। কাল সকালের মধ্যে তা হয়ে গেলে স্পিকারকে দিয়ে দেওয়া হবে। অন্যথায় চাওয়া হবে আরও দু’সপ্তাহ সময়।