প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে ছুরির কোপে জখম হলেন শিলিগুড়ির শান্তিনগরের এক শিক্ষিকা। আততায়ী তাঁর ‘প্রেমিক’ বলে দাবি স্থানীয়দের। শিক্ষিকাকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে অকুস্থলে বিষ খান তিনি। তার পর নিজের পেটেও ছুরি ঢুকিয়ে দেন। বুধবার সকালের ঘটনা।
আক্রান্ত শিক্ষিকার নাম শিউলি দত্ত। পেশায় শিক্ষিকা। শিলিগুড়িতেই বেসরকারি একটি শিক্ষকতা করেন তিনি। অন্যান্য দিনের মতো বুধবারও প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, ভোরবেলা তাঁর পিছু নিয়েছিলেন সজল দাস নামে এক যুবক। শিক্ষিকাকে কিছুটা রাস্তা অনুসরণ করার পরে তিনি ছুরি নিয়ে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। অতর্কিত আক্রমণে চিৎকার করে ওঠেন শিক্ষিকা। ছুরির এলোপাথাড়ি কোপে মুখে-গলায় আঘাত পান তিনি। তাঁর মাথার চুল কেটে রাস্তায় ফেলে দেন আক্রমণকারী। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে দৌড়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েছিলেন শিক্ষক।
কিন্তু ‘প্রেমিক’ও তাঁর পিছু নিয়ে ওই বাড়িতে ঢুকে পড়েন। শিউলির শরীরে যত্রতত্র ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারেন সজল। শিউলি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে সেখানেই বিষ খান সজল। তার পর রক্তমাখা ছুরিটি নিজের পেটে ঢুকিয়ে দেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। কাঞ্চনা মণ্ডল নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘দৌড়োতে দৌড়োতে ওই মহিলা পাশের বাড়িতে ঢুকে পড়েছিলেন। লোকটাও সেখানে ঢুকে পড়েন। মহিলাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে করতে নিজে বিষ খান। আমার চোখের সামনে নিজের পেটে ছুরি ঢোকান। ওই দৃশ্যের কথা ভাবলে এখনও আমার হাত-পা কাঁপছে।’’
আরও পড়ুন:
কয়েক জনের দাবি, তাঁরা সজলকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই যুবক ছুরি নিয়ে তাঁদের দিকেও তেড়ে যান। পরে ভক্তিনগর থানার আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। তারা রক্তান্ত অবস্থায় দুই যুবক-যুবতীকে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। সজলের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে খবর। শিউলির গলা-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় সেলাই করতে হয়েছে চিকিৎসককে। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলেই খবর।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সূত্রে খবর, সজল বিবাহিত। বয়স চল্লিশের বেশি। ওই শিক্ষিকা বিবাহবিচ্ছিন্না। বয়স চল্লিশের কম। এক নাবালক পুত্র রয়েছে তাঁর। সজলের বাড়ি থেকে খানিক দূরে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে একে অপরকে চেনেন যুবক-যুবতী। দু’জনের প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি কোনও কারণে দূরত্ব বেড়েছিল।
জখম শিক্ষিকার দাদা কল্যাণ সাহা বলেন, ‘‘এর আগেও ওই ব্যক্তি শিউলিকে উত্ত্যক্ত করত। এ নিয়ে পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তখন পদক্ষেপ করেনি। তার পর আজ এই ঘটনা।’’ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।