দুর্গাপুজোর ভিড়ে পকেটমারি, চুরি-ছিনতাই থেকে যে কোনও রকমের অপরাধ ঠেকাতে কোমর বাঁধছে কোচবিহার জেলা পুলিশ। মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের আড়ালে কেউ যাতে গোলমাল পাকানোর সুযোগ না পান, সে দিকে বিশেষ নজরদারির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বার দুর্গাপুজোর নিরাপত্তায় বিশেষ ‘অ্যান্টি রাউডি স্কোয়াড’ গড়ার উদ্যোগ নিচ্ছে জেলা পুলিশ। সাদা পোশাকে ভিড়ের মধ্যে মিশে থেকে অশান্তির আগাম আঁচ পেতেই কাজ করবে এই বিশেষ দল।
পুলিশ সূত্রে খবর, পুজোর দিনগুলোয় জেলার বিভিন্ন মণ্ডপ, জনবহুল রাস্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়াবেন স্কোয়াডের সদস্যেরা। পুজোর ক’টা দিন ইভটিজ়িং, মত্ত অবস্থায় গন্ডগোল করা কিংবা অন্য যে কোনও অশান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে সরাসরি খবর যাবে পুলিশ সুপারের কাছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। দুর্গাপুজোর সময় কোচবিহারে ভিন্জেলার প্রচুর মানুষ আসেন। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু দুষ্কৃতীমূলক কার্যকলাপ হয়। গোলমাল পাকানোর উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকে কাজকর্ম করেন। ভিড়ের মধ্যে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও আকছার ঘটে। তাতে সমস্যায় পড়েন সাধারণ দর্শনার্থীরা। এ বার সর্বসাধারণের সুরক্ষার্থে বিশেষ নজরদারির পরিকল্পনা করেছে পুলিশ-প্রশাসন।
বিশেষ করে কোচবিহার, দিনহাটা, মাথাভাঙা ও তুফানগঞ্জের পুরসভা এলাকায়, যেখানে পুজোর সময় দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি হয়, সেখানে সক্রিয় থাকবে পুলিশের ওই দল। নজরদারি ক্যামেরার সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে রাস্তায়। গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে বড় পুজো মণ্ডপগুলির আশপাশে যেখানে জনসমাগম বেশি হয়, সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, শহরে প্রবেশপথ এবং দর্শনার্থীদের আনাগোনার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার মণীশ জোশী বলেন, ‘‘অ্যান্টি রাউডি স্কোয়াড তৈরির একটি পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। পুজোর সময় বাইরের জেলা থেকেও কিছু দুষ্কৃতী বা গোলমাল পাকানোর উদ্দেশ্যে আসা লোকজন অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে। ভিড়ের সুযোগে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। সেগুলি ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। কেউ অশান্তি করার চেষ্টা করলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গাপুজোয় কোনও রকম অশান্তির আঁচ লাগতে দেব না।’’