Advertisement
E-Paper

অসমের জঙ্গলে ধরা পড়ল বক্সার সেই বাঘিনি! তিনটি কুনকি হাতি, পাঁচটি জেসিবি নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে অভিযান

গত ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে বাঘিনিটিকে ছাড়া হয়েছিল। তার পর থেকেই তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন বনকর্মীরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

অসমের জঙ্গলে ধরা পড়ল বক্সার সেই বাঘিনি। বন দফতর সূত্রে খবর, ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করার পরে মঙ্গলবার রাতেই ‘ডুয়ার্সের রানি’-কে ফেরানো হচ্ছে বক্সায়। পশ্চিমবঙ্গের বন দফতরকে জানিয়েছে অসম সরকার।

মঙ্গলবার অসমের কোকরাঝাড় জেলার দতমার সংলগ্ন একটি জঙ্গলে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে বাঘিনিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করতে সক্ষম হন বনকর্মীরা। তিনটি কুনকি হাতি এবং পাঁচটি জেসিবি মেশিনের সাহায্যে এই অভিযান চালানো হয়।

বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ জানান, বাঘিনিকে উদ্ধারের অভিযানে অসম সরকার ও সেখানকার প্রশাসনের কাছ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর। অসমের মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। মন্ত্রীর কথায়, অসমের রাইমোনা বনাঞ্চল থেকে বেরিয়ে বাঘিনিটি লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় চলে গিয়েছিল। গত আট-১০ দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল বন দফতর। প্রথমদিকে তাকে ধরার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। বরং তার গতিবিধির উপর নজর রেখে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু গত দু’-তিন দিনে বাঘিনিটি লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসতে থাকায় পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অভিযানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।

বনমন্ত্রী জানান, ‘ডুয়ার্স রানি’ অত্যন্ত সতর্ক ও চতুর হওয়ায় তাকে উদ্ধার করা সহজ ছিল না। তিনটি কুনকি হাতি ও পাঁচটি জেসিবি মেশিন নিয়ে অভিযান চালানো হলেও প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বনকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে কাবু করতে সক্ষম হন বনকর্মীরা। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন বনমন্ত্রী। কারণ, এখনও পর্যন্ত বাঘিনিটি কারও কোনও ক্ষতি করেনি। অসম ও পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর যৌথ ভাবে লাগাতার তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল।

বনমন্ত্রী আরও জানান, বক্সা ও অসমের জঙ্গল বৃহত্তর প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের অংশ। তাই এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ঘটনা। বাঘিনি উদ্ধারের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। আপাতত বন দফতরের প্রধান লক্ষ্য, বাঘিনিকে সম্পূর্ণ নিরাপদে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।


বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে দীর্ঘদিন বাঘের অস্তিত্ব না থাকায় সেখানে ফের বাঘের সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য বন দফতর। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সম্প্রতি বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে একটি বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে নিয়ে আসা হয়। গত ২ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সায় আরও বাঘ নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে বন দফতরের। বক্সাকে পুনরায় বাঘের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে গড়ে তোলা এবং সেখানে বাঘের বংশবিস্তার ঘটানোই সরকারের লক্ষ্য।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy