Advertisement
E-Paper

বক্সার বাঘিনিকে অসমের বনে খাঁচাবন্দি করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, মিলল এনটিসিএ-র অনুমতি, জানালেন বনমন্ত্রী

আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই বাঘিনিকে বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনা হবে। সাধারণ মানুষকে অহেতুক আতঙ্কিত না-হওয়ার আশ্বাস দিয়ে এমনটাই জানালেন রাজ্যের বন প্রতিমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০৬
মঙ্গলবার বনমন্ত্রী জানান, বাঘিনির গলায় রেডিয়ো কলার লাগানো রয়েছে।

মঙ্গলবার বনমন্ত্রী জানান, বাঘিনির গলায় রেডিয়ো কলার লাগানো রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

বক্সার জঙ্গল থেকে অসম সংলগ্ন রাইমোনার জঙ্গলে চলে যাওয়া বাঘিনিকে ফেরাতে তৎপর পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর। সব কিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবারের মধ্যেই তাকে খাঁচাবন্দি বা ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করা সম্ভব হতে পারে। এর পর আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই বাঘিনিকে বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনা হবে। সাধারণ মানুষকে অহেতুক আতঙ্কিত না-হওয়ার আশ্বাস দিয়ে এমনটাই জানালেন রাজ্যের বন প্রতিমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ।

মঙ্গলবার বনমন্ত্রী জানান, বাঘিনির গলায় রেডিয়ো কলার লাগানো রয়েছে। ফলে তার প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সে কোথায় বসছে, কোন দিকে এগোচ্ছে— সবটাই বনকর্মীদের নখদর্পণে রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “ভয় পাওয়ার বা উদ্বেগ প্রকাশ করার মতো কোনও কারণ ঘটেনি। রেডিয়ো কলার থাকায় বাঘিনি ঠিক কোথায় রয়েছে, তা আমরা জানি। আমাদের টিম এলাকায় উপস্থিত রয়েছে। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।” বনমন্ত্রী আরও জানান, বাঘিনিটি রায়মোনা বা ভুটানের করিডর দিয়ে নিজস্ব প্রাকৃতিক অভ্যাসে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ফিরবে বলে প্রথমে আশা করা হয়েছিল। সে কারণেই তাকে বাধা না দিয়ে দূর থেকে নজর রাখছিল বন দফতর। কিন্তু গত দু’-তিন দিনে সে জনবসতিপূর্ণ লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় বনকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (এনটিসিএ) এবং কেন্দ্রীয় বন মন্ত্রকের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই অভিযানে অসম সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন মনোজ। তিনি বলেন, “শঙ্কোষ পেরিয়ে আসার পর থেকেই বনকর্মীরা সর্বক্ষণ তৎপর। অসম সরকার প্রথম থেকেই অত্যন্ত সহযোগিতা করছে এবং আমাদের যৌথ দল পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।” তিনি জানান, পরিস্থিতি অনুকূল হলে দুপুরের পরেই মূল ট্রাঙ্কুলাইজেশন বা উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতে পারে। তবে বন্যপ্রাণী পরিচালনার ক্ষেত্রে আবহাওয়া এবং পারিপার্শ্বিক সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই সব দিক বিবেচনা করেই বিশেষজ্ঞেরা পদক্ষেপ করছেন। এলাকায় রটে যাওয়া বিভিন্ন গুজব প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। ‘ডুয়ার্সের রানি’ অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের। সে নিজেই মানুষ বা জটলা এড়িয়ে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। জনবসতি দেখলেই সে নিরাপদ আড়ালে ঢুকে পড়ছে। মানুষের আক্রমণের কোনও ঘটনা ঘটেনি। তাই কোনও গুজবে কান না দিয়ে বনকর্মীদের সহযোগিতা করার জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে আবেদন জানান বনমন্ত্রী। শীঘ্রই বাঘিনিকে উদ্ধার করে পুনরায় জঙ্গলে ফেরানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

গত ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে বাঘিনিটিকে ছাড়া হয়েছিল। তার পর থেকেই তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন বনকর্মীরা। সম্প্রতি তার গতিবিধিতে বদল লক্ষ করা যায় এবং জানা যায় যে, সে সীমানা পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে পৌঁছে গিয়েছে। এর পরেই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে বাঘ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের একটি দলকে অসমে পাঠানো হয়। শনিবার কুমারগ্রাম হয়ে অসমে যান বনমন্ত্রী নিজেও।

buxa tiger reserve Forest ministry Tiger

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy