ফের বিপর্যয়ের মুখে দুধিয়ায় হিউম পাইপ-নির্মিত সেতু। বৃহস্পতিবার রাত থেকে পাহাড় ও সমতলে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়। বাড়তে থাকে বালাসন, তিস্তা ও মহানন্দার জলস্তর। তার ফলে, ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বালাসনের উপর হিউম পাইপের দুধিয়া সেতু৷ আবার একবার সেতুর একাংশ জলের তোড়ে ভেসে গেল। এর ফলে সমতলের সঙ্গে মিরিকের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ। যেতে হচ্ছে ঘুরপথে— ঘুম-সুখিয়াপোখরি হয়ে৷
গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রবল বৃষ্টির কারণে বিপর্যয় নেমে এসেছিল পাহাড়ে৷ মিরিক-সহ কার্শিয়াং এবং দার্জিলিঙের অনেক এলাকা ধসের কবলে পড়েছিল। সেই সময়েই দুধিয়ার প্রধান সেতুর তিন নম্বর পিলার বালাসনের জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তড়িঘড়ি বালাসনের উপর ১৩২টি হিউম পাইপ দিয়ে ৪৬৮ মিটার লম্বা বিকল্প সেতু তৈরি করা হয়।
আরও পড়ুন:
সেই ধাক্কা সামলাতে না-সামলাতেই চলতি মরশুমে জুন মাসে প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেই সেতু। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় অস্থায়ী বেলি ব্রিজ বানিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছিল। হিউম পাইপের তৈরি সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে, সেনার তরফ থেকে বেলি ব্রিজটি খুলে ফেলা হয়। কাজেই বৃহস্পতিবার আবার জলের তোড়ে ব্রিজ ভেসে যাওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে যাতায়াত।
৮ জুলাই একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অস্থায়ী বেলি ব্রিজ উদ্বোধন করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে রাজ্য সরকার ধারাবাহিক ভাবে একাধিক পদক্ষেপ করছে। এই সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ে যোগাযোগব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হবে, দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জরুরি পরিষেবা আরও উন্নত হবে। বৃহস্পতিবার দুধিয়া সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ায় এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক তন্ময় গোস্বামী বলেন,‘‘ফের হিউম পাইপের ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত। মিরিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ। পর্যটনের মরশুম শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। বিশ্বকর্মাপুজোর পর থেকে পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল নামতে চলেছে। এমন অবস্থায় ব্রিজের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ হওয়া দরকার।"