সন্ধ্যা নামতেই ধানখেতে হানা দিচ্ছে হাতি। হাতির আনাগোনায় আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। অন্য দিকে, হাতি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা। এমনই ছবি সম্প্রতি বার বার দেখা যাচ্ছে ডুয়ার্সের গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন নর্থ ইংডংয়ে। রবিবার রাতে ডায়া গণেশ নামে পরিচিত একটি দাঁতাল হাতি আচমকাই ঢুকে পড়ে জঙ্গল সংলগ্ন ধানখেতে।
হাতিটির ডান দিকে দাঁত রয়েছে। বাঁ দিকেরটি নেই। তাই নাম ডায়া গণেশ। বন দফতর এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই হাতি অত্যন্ত পরিচিত। তাকে ‘হিংস্র’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। রবিবার রাতে সেই হাতিই নর্থ ইংডংয়ের ধানখেতে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ ধরে ধানের চারা খায়। স্থানীয় বাসিন্দারা হাতিটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। নিজের মতো ধানখেতে বিচরণ করতে থাকে সে।
ধানখেতে ডায়া গণেশের ঢুকে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমাতে শুরু করেন অনেকে। গরুমারা জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল থেকেই হাতিটি বেরিয়ে এসেছে বলে প্রাথমিক অনুমান। মূর্তি সংলগ্ন বনাঞ্চলেও বনবাসীদের বসতি লাগোয়া এলাকায় এই হাতিটিকে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বনকর্মীরা ইংডংয়ে পৌঁছে হাতিটিকে তাড়িয়ে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেন। এর পরেই কিছুটা স্বস্তির শ্বাস ফেলেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে তাঁদের আশঙ্কা, আবার ফিরে আসতে পারে ডায়া গণেশ।
আরও পড়ুন:
নর্থ ইংডং-সহ মূর্তি সংলগ্ন এলাকায় হাতির হানা নতুন ঘটনা নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিন রাতেই হাতি ধানখেতে ঢুকে পড়ছে। হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধানচাষ। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এলাকার ক্ষুদ্র কৃষকেরা। এক দিকে ফসল রক্ষার চিন্তা, অন্য দিকে হাতির হানার আতঙ্ক— এই দুইয়ের মধ্যেই দিন কাটছে জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের।