পাক গুপ্তচর সন্দেহে কোচবিহারের দিনহাটা থেকে ধৃত তিন জনের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে দিনহাটা আদালত। তবে ধৃত রশিদুল হক ও নাসিরুদ্দিন আলিকে পাক চর বলে মানতে নারাজ তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা।
দিনহাটার ২ নম্বর ব্লকের কুশারহাট এলাকার সরাইখানায় থাকতেন রশিদুল। তাঁর বাড়ি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায়। নাসিরুদ্দিন থাকতেন তুফানগঞ্জের দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বলরামপুরে।
রশিদুলের বাবা ওয়াহিদ আলির দাবি, ছেলে পরিযায়ী শ্রমিক। বাড়িতে ফিরেছেন বছরখানেক হল। তিনি কোনও ভাবেই দেশবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না। ধৃতের স্ত্রী নুরবানু বিবির দাবি, বৃহস্পতিবার কুশারহাট বাজারে বাইক ঠিক করাতে গিয়েছিলেন স্বামী। সেখান থেকেই পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। শুক্রবার রাত ১টা নাগাদ বাড়িতে পুলিশ এসে চারটি ঘরে তল্লাশি চালায়। ভেঙে দেখা হয় ট্রাঙ্কও। বাজেয়াপ্ত করা হয় পরিবারের সকলের মোবাইল (মোট পাঁচটি)।
রশিদুলের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের যোগাযোগ রয়েছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে নুরবানুর দাবি, ‘‘আমাদের বিয়ের ছ’বছর হল। দু’টি সন্তান রয়েছে। আমরা এই সব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি ও আমার স্বামী পরিবার নিয়ে বেঙ্গালুরুতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। দেশের বাড়িতে ফিরেছি এক বছর। টুকটাক কাজকর্ম করে সংসার চলছে।’’ তাঁর অভিযোগ, কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সিমকার্ড বা জালনোটের কারবার, কোনও কিছুর সঙ্গেই রশিদুল যুক্ত নন।
আরও পড়ুন:
পাক চর সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া নাসিরুদ্দিনকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরাও। তুফানগঞ্জের আল আমিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাইট গার্ডের কাজ করতেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ বছরের কন্যা রয়েছেন। পরিবারের দাবি, ভুল বোঝাবুঝির জেরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাসিরুদ্দিনের নামে কেউ সিম তুলে ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করছে পরিবার। স্ত্রী, ভাই-সহ প্রতিবেশীদের দাবি, গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে নাসিরের কোনও যোগ নেই। প্রায় ১০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে সংসার চালানো নাসির ভুগছেন বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতায়। তাই তাঁর পক্ষে এমন কোনও কাজে জড়ানো সম্ভব নয় বলেই দাবি পরিবারের। ধৃতের স্ত্রী শাহিনা পারভিনের দাবি, স্বামী নির্দোষ। তিনি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহিনার দাবি, কিছুদিন আগেও চিকিৎসার জন্য স্বামীকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর পক্ষে দেশবিরোধী কাজ করা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, এই দু’জনের সঙ্গে একই অভিযোগে সফিকুল নামে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সাহেবগঞ্জ থেকে। বর্তমানে তিনিও জেল হেফাজতে রয়েছেন।