আবাস যোজনার উপভোক্তা হোন বা জব কার্ড হোল্ডার— নানা সময়ে তাঁদের থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কোচবিহারের মারুগঞ্জ এলাকায়। এ বার সেই কাটমানির টাকা ৪৫ জন গ্রামবাসীকে ফেরত দিলেন মারুগঞ্জ অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান তপন কুমার রায়! টাকা ফেরত দেওয়ার এমনই এক ভিডিয়ো (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
পালাবাদলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। কখনও বীরভূম, কখনও মাথাভাঙা আবার কখনও জলপাইগুড়িতে এই ছবি দেখা গিয়েছে। এ বার কোচবিহারের মারুগঞ্জে কাটমানির টাকা ফেরত দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতে কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, এমনই বিষয় ধরা পড়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয়।
অভিযোগ, আবাস যোজনায় সুযোগ পাইয়ে দেবেন বা ১০০ দিনের কাজে জব কার্ড হোল্ডার হিসেবে নাম তুলে দেবেন— এমন দাবিতে গ্রামবাসীদের থেকে কাটমানি নেওয়া হয়েছিল। কারও থেকে পাঁচ হাজার, আবার কারও থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ। কারও কাছে থেকে আবার কাটমানি নেওয়ার অঙ্ক আরও অনেক বেশি। এই কাটমানি নেওয়ার নেপথ্যে নাম জড়িয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের। বিজেপির দাবি, মারুগঞ্জ এলাকায় ‘মাথা’ ছিলেন রাজেশ তন্ত্রী। তিনি মারুগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদকও। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর নানা অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের ধরপাকড় শুরু হয়। গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজেশও। যদিও এখন তিনি জামিনে মুক্ত।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজেশই ‘প্রভাব’ খাটিয়ে কাটমানি নিতেন গ্রামবাসীদের থেকে। তুফানগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা নাটাবাড়ি ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি চিরঞ্জীব দাসের দাবি, কাটমানি নেওয়ার বিষয়টি নজরে আসতেই তাঁরা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ‘চাপ’ দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগের তির মূলত রাজেশের দিকেই ছিল। চিরঞ্জীবের দাবি, ৪৫ জন গ্রামবাসীকে মোট ১ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের কোনও নেতা মুখ খুলতে চাননি।