ঘূর্ণিঝড় অর্ণব শক্তি খুইয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমেও। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পূর্ব সিকিমে তুষারপাত শুরু হয়েছে। বরফের চাদরে মুড়ে গিয়েছে নাথু লা, ছাঙ্গু-সহ পূর্ব সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সিকিমের এই পর্যটনস্থলগুলিতে সারা বছরই পর্যটকদের যাতায়াত লেগে থাকে। বিশেষ করে বাঙালিদের। সকাল থেকে তুষারপাতের খবর পেয়ে উচ্ছ্বসিত সিকিমে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকেরাও।
গত কয়েক দিনে উত্তরবঙ্গের আকাশ ছিল মোটের উপর পরিষ্কার। রোদ ঝলমলে আবহাওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলেছে। এমনকি ধূপগুড়ি, বানারহাট, মূর্তি এবং ডুয়ার্সের আরও বেশ কিছু এলাকা থেকে দেখা গিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দার্জিলিঙের পার্বত্য এলাকা, কালিম্পং এবং সিকিমে বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিলই। সিকিমের উঁছু পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে তুষারপাতের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল। পূর্বাভাস মিলিয়ে এ দিন ভোর থেকেই তুষারপাত শুরু হয়ে গিয়েছে ছাঙ্গু, নাথু লা এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে।
বরফে ঢাকা সিকিমের রাস্তা। — নিজস্ব চিত্র।
নাথু লা-র দিকে যাওয়ার রাস্তায় বিস্তীর্ণ অংশ বরফে ঢেকে গিয়েছে। সাদা বরফের চাদরে ঢেকেছে সংলগ্ন এলাকার ঘরবাড়ি, গাড়ি, চেকপোস্টও। তুষারপাতের খবর পেয়ে শ্বেতশুভ্র ছাঙ্গু, নাথু লা দেখার জন্য দার্জিলিঙে থাকা অনেক পর্যটকও সিকিমমুখী হতে শুরু করেছেন। পুজোর ছুটির মরসুমে এমনিতেই দার্জিলিং এবং সিকিমে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। তুষারপাতের ফলে পর্যটকদের মধ্যে উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তুষারপাতের সময়ে রাস্তাঘাটে চলাচলের সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকাও জরুরি। তুষারপাতের ফলে এ সব অঞ্চলের রাস্তাঘাট পিচ্ছিল হয়ে থাকে। অসতর্ক হলেই অঘটন ঘটার সম্ভাবনাও থেকে যায়।