রাজ্য সরকারের জনশিক্ষা প্রসার দফতর নবম ও তদূর্ধ্ব শ্রেণির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের ‘সহানুভূতি’ নামে একটি স্কলারশিপ বা বৃত্তি দিচ্ছে বিগত কয়েক বছর ধরে। এ বারও সেই বৃত্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অভিযোগ, এ বারও শুধুমাত্র চার ধরনের প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের এই বৃত্তি দেওয়া হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অনেকেরই বক্তব্য, ২০১৬ সালের প্রতিবন্ধী অধিকার রক্ষা আইনে ২১ ধরনের প্রতিবন্ধকতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, তা হলে জনশিক্ষা প্রসার দফতর শুধুমাত্র চার ধরনের প্রতিবন্ধকতাযুক্ত পড়ুয়াদের বৃত্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করল কেন? এর ফলে বাকি প্রায় ১৭ ধরনের প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ছাত্রছাত্রীরা এই বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের অভিভাবকদের অভিযোগ, ২১ ধরনের স্বীকৃত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও মাত্র চার ধরনের প্রতিবন্ধকতার জন্য বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল সরকারের সময় থেকেই। তখনও তাঁরা এ নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। যদিও কোনও ফল হয়নি। এ বার সরকার বদলানোর পরে তাঁরা ভেবেছিলেন, হয়তো সব ধরনের স্বীকৃত প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেই বৃত্তি দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার বদলালেও নিয়ম বদলায়নি। ফলে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের অনেকে বৃত্তির জন্য আবেদনই করতে পারেননি।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর সংগঠক তথা হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় বধির ও দৃষ্টিহীনদের স্কুল আনন্দ ভবনের টিচার ইন-চার্জ অজয় দাস বললেন, ‘‘এ বার অবস্থা আরও খারাপ। কারণ, যারা বৃত্তির জন্য আবেদন করবে, তাদের পরিবারের আয়ের শংসাপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরে বহু জায়গায় পঞ্চায়েত, পুরসভার মতো স্থানীয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে, আয়ের শংসাপত্র পেতে সমস্যা হচ্ছে।’’ অজয় জানান, ১০ অক্টোবর এই ছাত্র বৃত্তির ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের দাবি, এই সময়সীমা অন্তত ১৫ দিন বাড়ানো হোক।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর সাধারণ সম্পাদক কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘সরকার ২০১৬ সালের প্রতিবন্ধী অধিকার রক্ষা আইন মানছে না। প্রতিবন্ধী মেধাবী পড়ুয়ারা বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা হাই কোর্টে এ নিয়ে মামলা করব।’’
জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এ বিষয়ে বলেন, ‘‘নতুন সরকার পাঁচ মাসে অনেক পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হলে আমরা আরও বিস্তারিত জানতে পারব। বিগত সরকার যে শুধুমাত্র চার ধরনের প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেই বৃত্তি দিয়েছে, বাকিদের দেয়নি, সেটা আমরা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তুলে ধরব। সব ধরনের স্বীকৃত প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেই যাতে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, আমাদের দফতর সেই চেষ্টা করবে।’’