E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

জোট-সঙ্গ কত দূর, ভবিষ্যতের ভাবনা শুরু কালীঘাট ঘিরে

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৪১% ভোট রয়েছে তৃণমূলের। জনসমর্থনের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ভাঙনের জেরে অনেকটাই বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছে প্রধান বিরোধী দল।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

বিজেপি-বিরোধী জোটের বড় সমাবেশ তো হল। তার পরে?

দিল্লির যৌথ কর্মসূচির পরে এই প্রশ্ন ঘুরছে মমতা-তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের শরিক হিসেবে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে মমতা-তৃণমূলে। জোটের রাজনীতি ভোট পর্যন্ত কী চেহারা নিতে পারে, এখন থেকেই তা ভেবে পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করছেন দলীয় নেতৃত্বের একাংশ। তাঁদের মতে, বিরোধী শিবিরের অংশীদার হিসেবে দলের ভূমিকা নির্দিষ্ট করা না-গেলে নীচের তলার নেতা-কর্মী তো বটেই, তৃণমূলের সমর্থনেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৪১% ভোট রয়েছে তৃণমূলের। জনসমর্থনের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ভাঙনের জেরে অনেকটাই বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছে প্রধান বিরোধী দল। এই সময়ে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চে শামিল হলেও তার সব দিক সবিস্তার পর্যালোচনার প্রয়োজন নিয়ে কথা উঠেছে দলের অন্দরে। কারণ, সিপিএমের মতো ‘চিরশত্রু’ তো বটেই, কংগ্রেসের মতো ‘বিশেষ বন্ধু’র সঙ্গে একমঞ্চে হাজির হওয়ার ভাল ও মন্দ এখনই দেখে নেওয়া জরুরি বলেই মনে করছেন দলের অনেকে। মমতা- ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘‘মাসকয়েক আগেও এই দুই দলের কাউকে নিয়েই এ ভাবনা ছিল না। কার্যত বিপরীত পরিস্থিতিতে এই নতুন বিন্যাসের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তার জন্য দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি থাকা দরকার।’’ তাঁর আশা, মমতা নিশ্চয়ই সব দিক ভেবেই এগোচ্ছেন।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে দলের ভাঙন, মামলা-মোকদ্দমার ঝঞ্ঝাট এবং শাসক দলের ‘চাপে’র সামনে তৃণমূলের নীচের তলার নেতা-কর্মীরা দিশাহারা। এই অংশকে আশ্বস্ত করতে কালীঘাটের ভূমিকা বার্তা এখনও যথেষ্ট হয়ে উঠতে পারেনি। সেই সঙ্গে দলের নাম, প্রতীকের টানাপড়েন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘিরে আর্থিক সমস্যাও তাঁদের সামনে রাজনৈতিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথ লড়াই, কংগ্রেস ভেঙে তৈরি তৃণমূলের মতো দলের জন্য সহজ না-ও হতে পারে। মমতা-তৃণমূলের একাংশের মতে, এই রকম জোটের ভাবনায় রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট করা না-গেলে তা তাঁদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই অংশের মতে, কংগ্রেসের এক সময়ের শক্ত ঘাঁটি মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় সেই প্রবণতা দেখাও যাচ্ছে। সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত অন্যান্য এলাকায়ও যে এই পরিস্থিতি তৈরি হবে না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না তাঁরা।

কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় জোট-রাজনীতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই অভূতপূর্ব সঙ্কটের আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছে না মমতা-তৃণমূলের বড় অংশ। দলের অনেকেই মেনে নিচ্ছেন, বিধানসভা ভোটের থেকেও ‘কঠিন চ্যালেঞ্জ’ আসতে পারে তৃণমূলের সামনে। জয়-পরাজয়ের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তিন দশকের দলের অস্তিত্ব রক্ষার পরীক্ষা।

রামলীলা ময়দানের সভার পরেই ত্রিপুরার পুরভোটে বাম ও কংগ্রেসের আসন-রফার ভাবনার আভাস মিলছে। এই অবস্থায় জোটে দলের অবস্থান নিয়ে এখনই আলোচনার প্রয়োজন মনে করছেন তৃণমূলের এই নেতারা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
INDIA Alliance Congress

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy