জল বাড়ছে গঙ্গায়। বাড়ছে আতঙ্ক। মালদহে বন্যাবিধ্বস্ত মানিকচকের ভূতনিতে জনপদের পাশাপাশি, হাসপাতালেও ঢুকেছে জল। এই পরিস্থিতিতে সেখানে থাকা ১৭৪ জন অন্তঃসত্ত্বাকে সপরিবার নৌকায় ভূতনি সেতুর অন্য পারে মথুরাপুরে সরাতে চাইছে প্রশাসন। এ দিন বিকেল পর্যন্ত ১২ জনকে সরানো হয়েছে। দু’-এক দিনের মধ্যে বাকিদেরও মথুরাপুরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সন্তান প্রসবের দ্রুত সম্ভাবনা রয়েছে, এমন মহিলাদের মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করানো হবে। বাকিদের রাখা হবে মথুরাপুর মডেল স্কুলের আশ্রয় শিবিরে। জেলার এক স্বাস্থ্য-কর্তা বলেন, ‘‘ঝুঁকি নিতেচাইছি না।’’
রবিবার থেকেই মালদহে গঙ্গা চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ভূতনির তিনটি পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন করে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে বহু এলাকা। স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে ভূতনিতে ১৭টি চিকিৎসক দল, ছ’টি নৌকায় ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মজুত ৩৭০টি ‘অ্যান্টি-ভেনম কিট’।
মালদহের মানিকচকে রতুয়া ১, ইংরেজবাজার ও কালিয়াচক ৩ ব্লকেও উদ্ধার-অভিযান চলছে। ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৭টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। ত্রাণশিবিরে রয়েছেন ৪৭৫ জন। ২১টি নৌকা উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে। পানীয় জলের জন্য সাতটি ট্যাঙ্কার, ৫৮টি অস্থায়ী শৌচাগার ও ৫৮টি নলকূপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিস্থিতির উপরে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর। তিস্তার জল সকালের পরে নতুন করে বাড়েনি। চিয়কুং নদী সংলগ্ন পাহাড় থেকে ধস নেমে তিস্তার নদীখাতের একাংশ বন্ধ হয়েছিল। প্রাকৃতিক ভাবেই তিস্তার গতিপথে বাধা সরেছে, হড়পা বানের আশঙ্কা আপাতত নেই বলে জানিয়েছে সিকিম প্রশাসন। তবে ঝুঁকি নিতে রাজি নয় রাজ্যের সেচ দফতর। সেবক থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি লাগোয়া বিভিন্ন জনপদ, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিস্তার তীর থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে এ দিনও প্রচার চালানো হয়েছে। তৎপর ছিল বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর।