আলু, পেঁয়াজ, ঝিঙে, বেগুন, পটল, টমেটো-সহ শাকসব্জির দাম কত? রবিবার সকাল থেকে বাজারে বাজারে ঘুরে সেই খোঁজখবরই নিল পুলিশ-প্রশাসন। কাঁচামাল বা সব্জির দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না-যায়, তা খতিয়ে দেখেই এই আচমকা অভিযান। কোচবিহার, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখে পুলিশ-প্রশাসন।
কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারে রবিবার সকালে হঠাৎই হাজির হয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা। বাজারে বিভিন্ন দোকানে ঘোরেন তাঁরা। কোন সব্জির দাম কত নিচ্ছেন, দোকানদারদের থেকে জানতে চাওয়া হয়। এই অভিযান দলে ছিলেন কোচবিহারের ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ, স্থানীয় বিধায়কের প্রতিনিধি-সহ প্রশাসনের কয়েক জন আধিকারিকও।
বর্ষাকালে সব্জি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে প্রতিবছরই। তার মধ্যে অসমে বন্যা। সবকিছু মিলিয়ে সব্জির দাম কিছুটা বেড়েছে। কোথাও কোথাও কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা দাম বৃদ্ধিরও খবর মিলেছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাঁচা সব্জির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাজারে বাজারে ঘুরে দেখলেন আধিকারিকেরা। ভবানীগঞ্জ বাজারে কাঁচামালের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কথায়, ‘‘আমদানি-রফতানির উপর সব্জির দাম নির্ভর করে। আমরা সব পাইকারি ব্যবসায়ীরা একই দামে খুচরো বিক্রেতাদের কাছে জিনিস বিক্রি করি। আর তাঁরা প্রায় একই দামেই তা বেচেন। তবে সব সময় সব্জির দাম একই থাকবে, তা বলা যায় না।’’ ক্রেতাদের মতে, পুলিশ-প্রশাসনের নজরদারি যদি থাকে তবে সব সময়ই দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
আরও পড়ুন:
কোচবিহারের পাশাপাশি হুগলির বিভিন্ন বাজারেও হানা দিয়েছে পুলিশ। হুগলির শ্রীরামপুর, ব্যান্ডল, চন্দননগর, উত্তরপাড়ার বাজারে রবিবার সাতসকালে পৌঁছে যায় তারা। পাইকারি বাজারে কী দাম, খুচরো বাজারেই বা কত সব খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা। কালোবাজারি হচ্ছে কি না, তা-ও নজরে ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়া বাজারেও যৌথ অভিযান চালাল প্রশাসন। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি (ডিইবি) শান্তনু মুখোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জীব চক্রবর্তী। শুধু কাঁচা সব্জি নয়, মাছ-মাংসের দামও খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
প্রশাসনের বক্তব্য, বাজারে জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে যাতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত দাম দিয়ে না-ঠকেন, তা নিশ্চিত করতেই এই নজরদারি। বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী দিনেও নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।