বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের হিসাববহির্ভূত সম্পত্তির খোঁজে ফের তল্লাশি শুরু করল বীরভূম জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে সিউড়ির একটি বাড়িতে হানা দেন পুলিশ আধিকারিকেরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাড়ির মালিক টুলুই। তাঁর এক ম্যানেজার এই বাড়িতে থাকেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ছোটন নামের ওই যুবকের সন্ধানেই তল্লাশি চলছে।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলুর খোঁজ অবশ্য এখনও মেলেনি। হিসাববহির্ভূত অর্থ, আত্মীয়ের বাড়ি থেকে প্রচুর সোনা উদ্ধার এবং লালমাটির জেলায় সংগঠিত অপরাধ-সহ নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তাঁর বেশ কয়েক জন আত্মীয় এবং পরিচিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। মিনারকে গ্রেফতার করলেও টুলুকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। তাঁর অনেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে রক্ষাকবচ চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলা করেছিলেন টুলু। পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে গিয়েছিলেন। একটি বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপতি চন্দ সেই মামলা ছেড়ে দেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশাপাশি টুলুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড কর্নার’ নোটিসও জারি করা হয়েছে। সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত (এসিজেএম কোর্ট তাঁকে হাজিরা দিতে বলেছিল। বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টুলু সিউড়ি আদালতে না-গেলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তার আগে আদালত থেকে রক্ষাকবচ আদায় করতে চেয়েছিলেন বীরভূমের ব্যবসায়ী। তা সম্ভব হয়নি। পরে টুলুর সেই রক্ষাকবচ মামলা খারিজই করে দেয় হাই কোর্ট।