রাজ্যে পালাবদলের পর ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’-এর সংশোধনী পাশ করেছিল শাসক দল বিজেপি। এ বার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে সেই আইনকেই হাতিয়ার করতে চাইছে লালবাজার। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রতারণার অভিযোগে ধৃত ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’ (এমপিও)-এর ২ এবং ৯ নম্বর ধারা যুক্ত করতে চান তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার লালবাজার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এ ব্যাপারে কলকাতা সিজেএম কোর্টে আবেদন জানানো হবে। কোর্ট অনুমতি দিলে এই প্রথম কারও বিরুদ্ধে এই আইনের ব্যবহার হবে বলে পুলিশের দাবি।
ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্য়বহার করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ পাস’ বিক্রি ও দুর্নীতির মামলায় ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার। ওই ঘটনায় পৃথক তদন্ত করছে ইডি-ও। পুলিশের খবর, ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে প্রতারণা-সহ যে যে ধারায় মামলা হয়েছিল তার সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাবাস। কিন্তু নতুন দু’টি ধারাযুক্ত করার অনুমতি পেলে মামলাটি আরও গুরুতর হবে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই আইনের সাহায্যে দুর্নীতির টাকা দিয়ে কেনা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। এর পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারাও যুক্ত করা যায় কি না, সে ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন লালবাজারের কর্তারা।
লালবাজারের খবর, ইতিমধ্যে ইন্দ্রনীলের প্রায় ২৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীলের হিসাব-বহির্ভূত টাকা ও সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। সেই কারণেই ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে এমপিও আইনের ধারা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। লালবাজারের দাবি, প্রাথমিক ভাবে পুজোর ‘প্রিভিউ পাস’ কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন দফতরের টেন্ডার দুর্নীতি মিলিয়ে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির হিসাব সামনে আসছে। এ ব্যাপারে আরও বিশদে জানতে তদন্তকারীরা পর্যটন দফতর এবং তথ্য-সংস্কৃতি দফতরকেও চিঠি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় ওই দুই দফতরের মন্ত্রীছিলেন ইন্দ্রনীল।
এই তদন্তে ইন্দ্রনীলের মেয়েকেও তলব করেছে লালবাজার। পুলিশের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে মঙ্গলবার তিনি হাজিরা দেননি। আজ, বুধবার লালবাজারে আসবেন বলে জানিয়েছেন। হাজিরা এড়ালে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে লালবাজার। পুলিশের দাবি, পুজোর ‘প্রিভিউ পাস’ দুর্নীতির টাকা ইন্দ্রনীলের মেয়ের অ্যাকাউন্টেও ঢুকেছিল। প্রসঙ্গত, এর আগে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, মধুছন্দাও এই মামলার অভিযুক্ত। তবে তিনি কলকাতা হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন। পুলিশের দাবি, তবে এই মামলায় নাম জড়ানো কলকাতার অন্যতম প্রভাবশালী পুজোকর্তা তথা মাস আর্টের আরেক কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসু ‘পলাতক’।
পুলিশ সূত্রের খবর, কিছু প্রশ্নের সদুত্তর পেতে ইন্দ্রনীল এবং মধুছন্দাকে মুখোমুখি বসিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দু’জন ভিন্ন উত্তর দিয়েছেন বলেও পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের দাবি, মাস আর্টের বিষয়ে সব কিছু জানা ছিল মধুছন্দার। যদিও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন, পুজোর ‘প্রিভিউ পাস’-এর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। উল্লেখ্য, এখনও এই মামলায় মধুছন্দা-সহ অন্তক ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, পুজো পাস কেলেঙ্কারির তদন্তে গঠিত সিট-এর সদস্য পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ন’জন করা হয়েছে।