উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে গাড়ি থেকে উদ্ধার হল বিস্ফোরক এবং কিছু নিষিদ্ধ রাসায়নিক! বুধবার রাতের ঘটনায় এনআইএ এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে তল্লাশি অভিযানে নেমেছিল জাতীয় তদন্তকারী দল (এনআইএ), এনএসজি, ফরেনসিক দলও। নাশকতামূলক কাজে এই বিস্ফোরক ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় একটি বাইক শোরুমের মালিক রাকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা এলাকায় একটি গাড়িতে সন্দেহজনক জিনিসপত্র রয়েছে— এই মর্মে আগে থেকেই খবর ছিল এসটিএফ-এর কাছে। সেই সূত্র ধরেই গাড়িটির উপর নজর রাখা শুরু হয়। বুধবার রাতেই গাড়িটি আটক করে তার মালিক রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গাড়িতে থাকা বিস্ফোরক এবং রাসায়নিক নিয়ে কলকাতার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ঠিক কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে এই জিনিসগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে বিস্ফোরক জাতীয় জিনিসপত্র, লোহার জালকাঠিও রয়েছে। তবে বিস্ফোরকগুলির প্রকৃতি ও কার্যক্ষমতা পরবর্তী কালে পরীক্ষা করে দেখা হবে। ধৃত রাকিবুলকে বৃহস্পতিবারই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে এনআইএ। এই বিস্ফোরক এবং রাসায়নিক কোথা থেকে এল, কার নির্দেশে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।এই ঘটনা প্রসঙ্গে বারাসাত পুলিশ জেলার সুপার (এসপি) এম মার্সি বলেন, “তদন্ত চলছে। কেমন ধরনের বিস্ফোরক, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। বাকিটা তদন্ত হওয়ার পর বলা যাবে।”
জানা গিয়েছে, রাকিবুল প্রায় দশ বছর আগে গাড়ি মেরামতির কাজ ছেড়ে বাইকের শোরুম খোলেন। বর্তমানে দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা, বিড়া, দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর চারটি শোরুম রয়েছে। সূত্রের দাবি, কয়েক বছর আগে আমডাঙায় একটি বাইকের শোরুমে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ঘটনাচক্রে, সেই শোরুমের মালিকও রাকিবুল ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও আগের সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমানে বিস্ফোরক উদ্ধারের এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, গাড়িটি দু’দিন আগে থেকে দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা রোডের (রোড কিং) শোরুমের পাশে রাখা ছিল।