সিএএ শংসাপত্র থাকা ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকাভুক্ত করতে পদ্ধতি সংশোধনের পথে হাঁটছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের জেলা প্রশাসনগুলির তরফে দাবি, শংসাপত্র দেওয়া হলেও ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়টি কার্যত থমকে গিয়েছিল পদ্ধতিগত জটিলতায়।
ভোটার তালিকার নতুন নাম তোলার জন্য নির্ধারিত ফর্ম-৬ পূরণ করতে হয়। কিন্তু সেখানে সিএএ শংসাপত্র থাকা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা করে কোনও সুবিধা নেই। আর এই জায়গাতেই প্রয়োজন ছিল সংশোধনের। সিইও দফতর সূত্রের খবর, যে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হচ্ছে তাতে, শংসাপত্র থাকা ব্যক্তি ভোটার কার্ড পেতে অফলাইনে ফর্ম-৬ ভর্তি করবেন। জন্মস্থানের অংশে হাতে লিখতে হবে, যে দেশে তিনি জন্মেছেন তার নাম। কমিশনের যে আধিকারিকেরা তথ্য নথিবদ্ধ করবেন অনলাইনে, তাঁরা নিজেদের লগ-ইন-এর মাধ্যমে স্থায়ী ভাবে জন্মস্থানের সেই তথ্য কমিশনের তথ্যভান্ডারে সংযুক্ত করবেন। তার সঙ্গে থাকবে সিএএ শংসাপত্রের প্রমাণ।
জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বক্তব্য—এখনকার ফর্ম-৬ আবেদনপত্রে রাজ্য, জেলা এবং বিধানসভা-লোকসভা কেন্দ্রের নাম দিতে হয়। পরের ধাপে নিজের এবং মা-বাবা-স্বামী-স্ত্রী-আইনি অভিভাবকের নাম থাকে। জন্মের সাল-তারিখ, অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য, ঠিকানা ইত্যাদি দেওয়ার পরে শেষ পর্বে একটি ‘ডিক্লারেশন’ দিতে হয় আবেদনকারীকে। সেখানে জানাতে হয়, তিনি এ দেশের নাগরিক এবং তাঁর জন্মস্থান কোথায়। এ ক্ষেত্রে কমিশনের আবেদন-পোর্টালে দেওয়া থাকা এ দেশের রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, জেলা, শহর/গ্রামের তালিকা থেকে উপযুক্ত তথ্য বেছে নিতে হয়।
এক কর্তার কথায়, “ভোটার-আবেদনের ক্ষেত্রে জন্মস্থান দেওয়া বাধ্যতামূলক। সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য সেখানে এ দেশের সব রাজ্য, জেলা এবং গ্রাম বা শহরের তালিকা আগে থেকেই দেওয়া রয়েছে। যার মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে হয়। কিন্তু সিএএ থাকা ব্যক্তিদের জন্ম দেশের বাইরে কোথাও হওয়ারই কথা। কিন্তু সেই বিকল্প এখনকার পদ্ধতিতে দেওয়ার চালু রীতি নেই।” কেন্দ্রের সঙ্গে গত বৈঠকেই এই সমস্যাটি আধিকারিকদের একাংশ উল্লেখ করেছিলেন বলে খবর। তখনই কেন্দ্র সংশোধনের বার্তা দিয়েছিল।
জেলা নির্বাচনী আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, ফর্ম-৬ তৈরি করা হয়েছিল আগের নাগরিকত্ব সংশোধনীগুলির উপর নির্ভর করে। তাতে প্রথম পর্যায়ে ছিল, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পর থেকে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে যাঁরা জন্মেছেন এ দেশে, তাঁরাভারতের নাগরিক। পরের সংশোধনী অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই অথবা তার পর থেকে ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত যাঁরা এ দেশে জন্মেছেন এবং জন্মের সময় মা-বাবার মধ্যে যে কোনও একজন ভারতীয় নাগরিক, তিনি এ দেশের নাগরিক হিসাবে গ্রাহ্য হবেন।
এর পরের সংশোধনীতে বলা হয়, ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বা তার পর থেকে যাঁরা এ দেশে জন্মেছেন এবং যাঁদের মা-বাবা উভয়েই দেশের নাগরিক অথবা একজন এ দেশের নাগরিক এবং অন্যজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নন, তাঁরা দেশের নাগরিক হিসাবে চিহ্নিত হবেন। ফলে ফর্ম-৬ আবেদনপত্রে জন্মস্থান হিসাবে এ দেশেরই কোনও রাজ্য-জেলা-বিধানসভা এলাকার তথ্য দাখিল করতে হয়।
পরবর্তীতে সিএএ পাশ হওয়ার পরে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে সেখানকার সংখ্যালঘুরা এ দেশে এসে শংসাপত্র চাইলে তা দেওয়ার পদ্ধতি চালু হয়। সেই মতো সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত গোটা দেশে সিএএ আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩.০৬ লক্ষ। তার মধ্যে প্রায় ২.৬৪ লক্ষ আবেদনকারী ছিলেন শুধু পশ্চিমঙ্গেই। ২৩টি জেলা মিলিয়ে সেই সময় পর্যন্ত প্রায় ২.৩৮ লক্ষ সিএএ আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়া বাকি ছিল।