E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কমিশন-প্রতিবাদ জারি, ‘চক্রান্তে’র দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

জ্ঞানেশ-প্রশ্নে আজ, মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে মমতা-তৃণমূল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪১
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে প্রদেশ কংগ্রেসের ধর্না -অবস্থান। বিধান ভবনের সামনে।

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে প্রদেশ কংগ্রেসের ধর্না -অবস্থান। বিধান ভবনের সামনে। নিজস্ব চিত্র।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এবং ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে দিল্লির পাশাপাশি এ রাজ্যেও আন্দোলন অব্যাহত। পৃথক ভাবে পথে নামছে বিভিন্ন বিরোধী দল ও সংগঠন। আর এরই মধ্যে দিল্লিতে লাগাতার প্রতিবাদের পিছনে ‘বড় চক্রান্তে’র তত্ত্ব সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সেই সঙ্গেই তাঁর হুঁশিয়ারি, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ডাক দিলে ‘রাষ্ট্রবাদী জনতা’ নেমে প্রতিবাদীদের বুঝে নিত!

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) বাদ পড়া ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম ফেরানো এবং জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার কংগ্রেসের রাজ্য দফতর বিধান ভবনের সামনে ধর্না-অবস্থান ছিল। কর্মসূচিতে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, মায়া ঘোষ, অমিতাভ চক্রবর্তী, শুভাশিস ভট্টাচার্য, সুমন রায়চৌধুরী প্রমুখ। অমিতাভ বলেছেন, ‘‘প্রথম নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেনকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু অনুরোধ করেছিলেন ১৯৫১ সালের নির্বাচন মে মাসের মধ্যে শেষ করতে। সেই কথায় কর্ণপাত না-করে নির্বাচন কমিশন অক্টোবর মাসে নির্বাচন শুরু করে, শেষ হয় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আবার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টি এন শেষন ছিলেন সিইসি, সেই সময় কমিশন কী ভাবে নিরপেক্ষতা রক্ষা করেছে, দেশের মানুষ জানেন। এটাই পার্থক্য কংগ্রেস আর বিজেপির মধ্যে।’’ জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে লোকভবন অভিযানও হয়েছে প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের ডাকে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এ দিনই দাবি করেছেন, “এটা ‘ডিপ স্টেট’। বড় চক্রান্ত। তবে কিছু করতে পারবে না। দল আমাদের নামতে বলেনি। নামতে বললে, রাষ্ট্রবাদী জনতা যা করার, করে দিতেন! দেশে সরকার, আইন, দিল্লি পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনী আছে। এখানে ওই সব হবে না। রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছে। তাঁকে বা বিজেপিকে সরাতে গেলে, ভোটের মাধ্যমেই তা করতে হবে। সেটা পারবে না। নিজেদেরই অস্তিত্ব রাখতে পারছে না (বিরোধীরা)।” তাঁর আরও মন্তব্য, “দেশ-বিরোধী শক্তি, দিমাগি নকশাল, জামাত, মৌলবাদী শক্তি দিল্লিতে কথা বলছে যে, নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও রাস্তায় দেশের নির্বাচিত সরকার ও বিজেপির ক্ষতি করা যায় কি না। চক্রান্ত চলছে। সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে তৃণমূল তৈরি হয়েছিল, সেই তৃণমূল এখন সিপিএমের এম এ বেবি-র পা ধরছে!”

জ্ঞানেশ-প্রশ্নে আজ, মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে মমতা-তৃণমূল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য কটাক্ষ করেছেন, “তৃণমূল মৃত। ‘বেবি ফুড’ খেয়ে কিছু হবে না! যিনি বাঘিনী ছিলেন, তিনি যদি আরশোলা, কাঁকড়ার সঙ্গে খেলতে শুরু করেন, আমরা কী করব?” শমীকের দাবি, ‘‘জ্ঞানেশই বিরোধীদের গণেশ উল্টে দেবেন!’’

শহরে বাম দলগুলির সভা থেকে এ দিনই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম পাল্টা দাবি করেছেন, “যন্তর মন্তর রাজনীতিতে বিজেপির অবসানের সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোট চুরির মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংসের যে কাজ চলেছে, দেশ জুড়ে তার বিরুদ্ধে উত্তাল প্রতিবাদ চলছে। যাঁরা মনে করতেন ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’, তাঁরাও বলছেন, মোদী থাকলে কিছু সম্ভব নয়। তাই প্রতিবাদে নামছেন তাঁরাও।” সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের সংযোজন, “জ্ঞানেশ কুমার উপলক্ষ মাত্র। তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থে। আরএসএস-বিজেপি এবং মোদী-অমিত শাহ যা বলেছেন, তিনি তা-ই করেছেন।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Congress ECI Gyanesh Kumar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy