বিজয়া দশমী মানেই বিষাদের সুর আর সিঁদুরখেলা। তবে বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকের বৈতল গ্রামে রীতি একেবারেই ভিন্ন। গত চারশো বছর ধরে দশমীর দিন সিঁদুরের বদলে দিনভর কাদাখেলায় মেতে থাকেন গ্রামের আট থেকে আশি। শতাব্দীপ্রাচীন এই রেওয়াজে আজও এতটুকু ছেদ পড়েনি।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় চারশো বছর আগে মল্লরাজ দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহ যুদ্ধে যাওয়ার পথে বৈতল গ্রামের ঝগড়াই ভঞ্জনীদেবীর মন্দিরে পুজো দেন। দেবীর আশীর্বাদে যুদ্ধে জয়লাভ করে রাজধানীতে ফেরার পথে সৈন্যবাহিনী-সহ রঘুনাথ ফের ওই মন্দিরের সামনে উপস্থিত হন। সেখানে পুজো দিয়ে মন্দিরের সামনের মাঠে কাদা মেখে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠেন মল্লরাজার সৈনিকেরা। সেই বিজয়া দশমীর দিন থেকেই ঝগড়াই ভঞ্জনী মন্দিরের সামনে কাদাখেলার এই প্রথা শুরু হয়।
বর্তমানে দশমীর দিন মন্দিরপ্রাঙ্গণে বিশেষ ভাবে মাটির বাঁধ তৈরি করে স্থানীয় সাতটি পুকুর থেকে পাম্পের মাধ্যমে জল এনে হাঁটুসমান করা হয়। দুপুরে বৈতল ও আশপাশের গ্রামের মানুষ কাতারে কাতারে জড়ো হন এবং দেবীকে প্রণাম করে কাদাখেলায় নামেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিকেলে হিজলডিহা গ্রামের বকশি পরিবারের কোনও এক সদস্য এসে মাটির বাঁধ কেটে জল বার করে দিলে তবেই এই কাদাখেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
সময়ের সঙ্গে মল্ল রাজত্ব হারিয়ে গেলেও বৈতল গ্রামে আজও অমলিন ঝগড়াই ভঞ্জনী মন্দির। এখানে প্রতিদিন নিয়ম করে নিত্যপুজো ও দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। এখানকার কষ্টিপাথরের অষ্টধাতুর প্রতিমার রূপও ভিন্ন। উত্তরমুখী এই মন্দিরে দেবী পূজিতা হন চণ্ডী রূপে। দেবীর এক পা সিংহের উপর (মহিষাসুর বধের ভঙ্গিতে) এবং অন্য পা হাতির উপর (করিন্দ্রাসুর বধের ভঙ্গিতে) স্থাপিত।