Advertisement
E-Paper

তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ড: মেঘালয়ের একই পরিবারের দুই শিশু-সহ পাঁচ জনের মৃত্যু! মোট মৃত নয়

প্রশাসন সূত্রে খবর, হোটেল থেকে মোট ২৮ জনকে সুস্থ অবস্থায় নিরাপদে বার করে দেওয়া গিয়েছে। এখনও কয়েক জন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ অগস্ট ২০২৬ ১৩:৪৯
তারাপীঠ হোটেলে দমকলের উদ্ধারকাজ। সঙ্গে পুলিশও।

তারাপীঠ হোটেলে দমকলের উদ্ধারকাজ। সঙ্গে পুলিশও। ছবি: পিটিআই।

তারাপীঠের হোটেলের আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের। তাঁদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। সূত্রের খবর, হোটেলের সবচেয়ে উপরের তলায় ছিল ওই পরিবার। আগুন লেগেছে জানতে পেরে শিশুদের নিয়ে সকলে একসঙ্গে পালানোর চেষ্টা করেন। নীচে নামতেই আগুনের মুখে পড়েন। তাঁদের কাউকে বাঁচানো যায়নি। এ ছাড়াও আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা নয়।

প্রশাসন সূত্রে খবর, হোটেল থেকে মোট ২৮ জনকে সুস্থ অবস্থায় নিরাপদে বার করে দেওয়া গিয়েছে। সাত জন এখনও রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতদের মধ্যে দুই শিশু ছাড়াও এক মহিলা এবং পাঁচ জন পুরুষ রয়েছেন। মেঘালয়ের সাউথ গারো হিল্‌স জেলার শিববাড়ি গ্রাম থেকে তারাপীঠে পুজো দিতে এসেছিল একটি পরিবার। মৃত্যু হয়েছে রাজেন্দ্র নাথ, তাঁর স্ত্রী আশা নাথ, তাঁদের আট বছরের পুত্র ঔষনাথ মদকের। ওই পরিবারের সদস্য বুরান মদক এবং তাঁর ১০ বছরের পুত্র শিবরাজ মদককেও বাঁচানো যায়নি। এ ছাড়া, মৃতদের তালিকায় আলিপুরদুয়ারের তিন জন রয়েছেন। তাঁরা হলেন কমল রায়, অমিত পাল এবং সুবীর সাহা।

তারাপীঠ থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে হোটেল ‘বিদেশিনী’। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ আচমকা সেখানে আগুন লেগে যায়। হোটেলের একেবারে নীচের তলায় আগুন লেগেছিল। সেখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে দোতলা পর্যন্ত। আগুন তার উপরে ওঠেনি। তবে ধোঁয়া পৌঁছে গিয়েছিল পাঁচতলা পর্যন্ত। হোটেলের আবাসিকেরা অধিকাংশই সে সময় ঘুমোচ্ছিলেন। ধোঁয়ায় এবং চিৎকারে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কে উপর থেকে অনেকেই নীচে নেমে এসেছিলেন। হোটেল থেকে বেরোনোর দু’টি দরজা ছিল। কিন্তু আগুন লাগার কারণে হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। অন্ধকারে অনেকেই পিছনের দরজাটি খুঁজে পাননি। তাঁরা সামনে রিসেপশনের দিক দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেছিলেন। তার ফলে একেবারে আগুনের মুখে পড়ে যান। অনেকের অভিযোগ, পিছনের দরজাটি বন্ধ ছিল। তাই সেখান দিয়ে বেরোনো যায়নি। তবে হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল না বলে জানিয়েছে দমকল।

তারাপীঠের ঘটনায় হোটেলের মালিক কল্যাণ পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হোটেলের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই ঘটনায় সমাজমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তারাপীঠের ঘটনার বিষয়ে ফোন করে খবরাখবর নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহাও। হোটেলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তারাপীঠের ঘটনায় সমাজমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। লিখেছেন, ‘‘বীরভূমে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় আমি মর্মাহত। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের সমবেদনা জানাই। আহতেরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এই কামনা করি। ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয় প্রশাসন সহায়তা করছে।’’

প্রশাসনের পদক্ষেপ

হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর বীরভূম জেলা প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ করা হয়েছে। তারাপীঠের প্রতিটি হোটেল, গেস্ট হাউস এবং হোমস্টে-তে স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কি না, বিদ্যুৎ সংযোগ কেমন খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক ধবল জৈন। সোমবারই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কৌশিকী অমাবস্যা আসছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সেই উপলক্ষে ভিড় বাড়তে পারে তারাপীঠে। প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যায় কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থী সেখানে জড়ো হন। সে কথা মাথায় রেখে এবং সোমবারের ঘটনা বিবেচনা করে সতর্ক প্রশাসন।

Tarapith Hotels Tarapith Temple Birbhum Rampurhat Fire Incident

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy