অনুব্রত মণ্ডলের উপরে হামলার অভিযোগের পরে বোলপুরে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকাকালীন কেন্দ্রে বিজেপির একাধিক বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন মমতা। এমনকি, বিরোধীদের যে জোট ‘ইন্ডিয়া’ তৈরি হয়েছিল, সেই জোটকে শক্তিশালী করার বদলে মমতা তা ভাঙার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন ঋতব্রত। মমতাকে তিনি ‘বিজেপির প্যাঁচা’ বলে কটাক্ষ করেন। মমতাপন্থী নেতা কুণাল ঘোষের পাল্টা খোঁচা, ‘‘যাঁরা পাঁচ মাস আগে নেত্রীর পরিচয় দিয়ে ভোটে জিতেছেন, তাঁদের এ সব কথার উত্তর দেওয়ার দরকার নেই।’’
সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে বুধবার আক্রান্ত হন অনুব্রত। তার পরের দিন, বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান ঋতব্রত, মদন মিত্র, অরূপ রায়, স্নেহাশিস চক্রবর্তী-সহ পাঁচজনের একটা দল। সেখানে ঋতব্রত বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির প্যাঁচা।” তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্বের কথা মমতা মুখে বললেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের সহযোগিতা করেছেন।
পাশাপাশি, বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন ঋতব্রত। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিভিন্ন সময়ে সততার কথা বললেও তাঁদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। কুণালের পাল্টা মন্তব্য, ‘‘যে ব্যক্তিরা ৫ মাস আগে মমতার পরিচয় দিয়ে ভোটে জিতেছেন, তাঁদের এ সব কথার উত্তর দেওয়ার দরকার নেই।’’ তার পরেই কুণাল বলেন, ‘‘জনগণ জবাব দিচ্ছে। তাই তাঁদের সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্টের কমেন্ট বক্স খোলা যায় না। ইস্তফা দিয়ে নিজেদের দৌড়ে জিতে আসুন! বিজেপির শিখিয়ে দেওয়া বুলি সব। ওঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।’’
অনুব্রতের উপর হামলার ঘটনা নিয়েও মুখ খুলেছেন ঋতব্রত। হামলার ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্তেরা হুমকি দিচ্ছেন অনুব্রতকে। তাঁকে সিউড়ির দফতরে আসতে বারণ করছেন। সেই প্রসঙ্গে ঋতব্রতের হুঁশিয়ারি, আগামী ৯ অক্টোবর, মহালয়ার আগের দিন, অনুব্রতকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে যাবেন। হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ধারায় মামলা করা হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত।
আরও পড়ুন:
-
পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি অনুব্রত, অভিযুক্ত তিন জনকে রাতেই ছেড়ে দিল পুলিশ
-
‘বিচারের ভার গণদেবতার’! মৃত্যুকামনা করা হুমায়ুনকে জবাব শুভেন্দুর, রেজিনগরের প্রচারে বিঁধলেন মমতাকেও
-
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আধিকারিক সেজে নবান্নে পূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মহিলার! দিল্লি গিয়ে গ্রেফতার করল পুলিশ
বুধবার তৃণমূলের কার্যালয়ের ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছিল পুলিশ। রাতেই অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অনুব্রত বা তাঁর দল (ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূল)-এর তরফে স্থানীয় থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুলিশের তরফেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়নি বলে ওই সূত্রের দাবি। যদিও বৃহস্পতিবার পাল্টা সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রতই। সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন বিজেপি-কেও। তাঁর বার্তা, বিজেপি যদি মাঠে নেমে এবং রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক লড়াই করতে চায়, তা হলে আগামী দিনে তাঁরাও রাস্তায় নেমেই তার মোকাবিলা করবেন।
অনুব্রত এখন ঋতব্রত তৃণমূলের জেলা সভাপতি। বুধবার সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ের দোতলায় উঠে পড়েন তিন যুবক। ঘরে ঢুকে অনুব্রতকে চেয়ারে বসিয়ে রেখে ভাঙচুর চালান মূলত দু’জন। ধরা হয় তাঁর পাঞ্জাবির কলার। একদা বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে হুমকি দিতে দিতে ঘরে থাকা চেয়ার-টেবিল থেকে বাতানুকূল যন্ত্র পর্যন্ত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। টেবিলের কাচ ঠিকরে মুখে লাগে কেষ্টর। আক্রমণকারীদের নানা প্রশ্নের মুখে কখনও তিনি চুপ থাকেন। কখনও বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নেতা নন। তিনি কখনও পছন্দ করতেন না তাঁকে।