মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যুকামনা করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এইউজেপি)-র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। উপনির্বাচনে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে সেই হুমায়ুনকেই বিঁধলেন শুভেন্দু। তাঁর খোঁচা, “এই লোককে ভোট দেবেন!” বিঁধলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে মিছিল থেকে ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে পদপিষ্ট শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থীদের মিছিলের সময় ওই ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ।
আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে উপনির্বাচন। হুমায়ুন জানিয়েছেন, তাঁর ছেড়ে দেওয়া রেজিনগর আসন যেন তেন ভাবে দখল করতে চাইছে শাসকদল। এ জন্য নানা বেআইনি পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনাও করেছিলেন। সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারে গিয়ে সেই হুমায়ুনকে খোঁচা দিলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয় এবং হবেও। বাক্য বিনিময় হবে, তর্ক হবে, আলোচনা-সমালোচনা হবে, এক জন জিতবে-অন্য জন হারবে। আর এখানে হুমায়ুন সাহেব বলছেন, ‘আমি প্রতি শুক্রবার প্রার্থনা করছি, অজিত পওয়ারের মতো মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু) তাড়াতাড়ি উপরওয়ালার কাছে চলে যান!’ শত্রু হলেও মুখে এই ভাষা আনি না।’’ তার পরেই শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘‘বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার।”
শুভেন্দু এখানেই থামেননি। জনসভায় একের পর এক তোপ দাগতে থাকেন হুমায়ুনকে লক্ষ্য করে। তিনি বলেন, “আপনার লোকেরাই আপনার কাছ থেকে সরে গিয়েছে। কারণ আপনাকে রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে আপনি ছুরি মেরেছেন।’’ হুমায়ুনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘আপনি (হুমায়ুন) যখন মন্ত্রী ছিলেন, রেজিনগরে দাঁড়িয়েছিলেন, সে দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বলেছিল, বিধায়ক চাইছেন না মন্ত্রী চাইছেন? সে দিন রেজিনগরের লোক আপনাকে হারিয়েছিল। আপনাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন মুকুল রায়। আপনি বিজেপির সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। শেষ আশ্রয়স্থল ছিল তৃণমূল। আপনিও বিভাজনের রাজনীতি করে ধর্মীয়স্থানকে সামনে রেখে রাজনীতি করেছেন।”
নওদার আসন রেখে রেজিনগর ছেড়ে দিয়েছেন হুমায়ুন। সেখানে প্রার্থী করেছেন নিজের পুত্র গোলাম নবি আজাদকে। শুভেন্দুর অভিযোগ, বিধানসভা ভোটে জেতার পর থেকে নওদার মানুষের জন্য কিছুই করেননি বিধায়ক। তাঁর কথায়, “নওদা থেকে বিধানসভায় গিয়েছেন হুমায়ুন সাহেব। এই ৫ মাসে নওদার লোককে কী দিয়েছেন? একটা ইটই গাঁথতে পারেননি। আগামী ৫৫ মাসেও পারবেন না।”
শুধু হুমায়ুন নয়, এ দিন রেজিনগরের প্রচারমঞ্চ থেকে তৃণমূলকেও কড়া ভাষায় তুলোধনা করেন তিনি। শুভেন্দু স্পষ্ট করে বলেন, “৫ মে মধ্যরাতে আমি বলেছিলাম তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। ১৫০ দিনে জোড়াফুলও নেই, তৃণমূলও নেই। কে আসল, কে নকল! মমতা এআইটিসি তো গরুর গাড়ির হেডলাইট, আর একটা ডেমোক্রেটিক টিএমসি। রেজিনগর কেন, গোটা বাংলায় এদের নাম পাবেন না। যেমন কর্ম তেমন ফল তো পেতেই হবে।”
আরও পড়ুন:
-
ধূপগুড়িতে ক্লাসঘরে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে গোখরো! দেখে ছোটাছুটি পড়ুয়াদের, দু’ঘণ্টার চেষ্টায় স্কুল থেকে ধরা পড়ল সেই বিষধর
-
কৃষক না হয়েও কী ভাবে কৃষি সমবায় সমিতি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ! প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু কমিশনের
-
লজেন্স কুড়োনোর মাশুল! রেজিনগরে ঋতব্রতপন্থীদের মিছিলের সময় পদপিষ্ট, কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যু ছয় বছরের শিশুর
বৃহস্পতিবার শক্তিপুরে জনসভায় যাওয়ার সময় জেসমিনার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। রেজিনগরে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে মিছিল থেকে ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে পদপিষ্ট হয় জেসমিনা মল্লিক। তার বাবা দুলাল মল্লিকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং ওই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর শুভেন্দু বলেন, ‘‘এখন নির্বাচনী বিধি কার্যকর রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে কোনও রকম সরকারি সাহায্য করা যাবে না। ৯ তারিখের পর নির্বাচনী বিধি উঠে গেলে আমি পুরো বিষয়টি দেখে নেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কেউ তো ইচ্ছা করে এটা করে না। এটা একটা দুর্ঘটনা। কিন্তু সরকারের তরফে যা সাহায্য করার তা করব।’’ রেজিনগরের বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের শিশুটির বাবার নাম এবং ফোন নম্বর জেলাশাসকের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
৬ অক্টোবর মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচন। স্থানীয় সূত্রে খবর, গত রবিবার সেখানে প্রচারে গিয়েছিলেন ঋতব্রতপন্থীরা। ভিড়ের মধ্যে থেকে নেতারা রাস্তায় লজেন্স ছড়াচ্ছিলেন বলে খবর। সেই লজেন্স কুড়োতে গিয়ে আচমকা ভিড়ের মধ্যে পড়ে যায় শিশুটি। পদপিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় জেসমিনা। পরে কলকাতার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।