কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে প্রতি বছরই পুণ্যার্থীদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। গর্ভগৃহে ঢুকে বিগ্রহ দর্শনের সুযোগ থাকে। তবে এ বছর থেকে সেই নিয়মে বদল আনতে চলেছে মন্দির কমিটি। তারা জানিয়েছে, ভক্তদের ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গর্ভগৃহে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, আমলা কিংবা ভিআইপিদের জন্য সেই নিয়মের কোনও নড়চড় হবে না।
মন্দির কমিটির তরফে কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল গর্ভগৃহে ভক্তদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা। তারা জানিয়েছে, এ বার কৌশিকী অমাবস্যায় আর গর্ভগৃহের ভিতরে প্রবেশ করে পুজো বা মূর্তি স্পর্শ করতে দেওয়া হবে না। সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে ভিআইপি, ভিভিআইপি, প্রশাসনিক আধিকারিক কিংবা মন্ত্রীদের জন্য একই নিয়ম বলবৎ হবে। সকলকে লাইনে দাঁড়িয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে হবে।
মন্দির কমিটির দাবি, প্রতি বছর গর্ভগৃহে প্রবেশের সময় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ভিআইপি লাইনের জন্য সাধারণ লাইন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রাখার অভিযোগও ওঠে। তাড়াতাড়ি বিগ্রহের দর্শন করিয়ে দেওয়ার নামে ভক্তদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও ছিল। সেই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই এ বার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি।
মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কৌশিকী অমাবস্যার দিন তারাপীঠে দু’টি লাইন চলবে। একটি ভিআইপি এবং অন্যটি সাধারণ লাইন। তাঁর কথায়, ‘‘প্রশাসনের কাছে আমরা বলেছি, ভিআইপিদের জন্য আমাদের কাছে যেন কোনও অনুরোধ করা না হয়। গর্ভগৃহে প্রবেশে অনুমতি দেব না। মন্ত্রী আসুক, বিধায়ক আসুক বা আমলা আসুক, প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, গর্ভগৃহে প্রবেশের জন্য যেন কোনও অনুরোধ করা না হয়।’’ এর পরেই নিখিলের সংযোজন, ‘‘যদি চাপ আসে, তবে তা সামলানোর চেষ্টা করব। তবে খুব চাপ এলে সেটা তারা মায়ের উপর ছেড়ে দেব। গর্ভগৃহের বাইরে যে বারান্দা রয়েছে, সেখান থেকে পুণ্যার্থীরা বিগ্রহ দর্শন করতে পারবেন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।’’ তিনি জানান, ভিআইপি লাইনের জন্য মাথাপিছু ৫০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে (তবে এই লাইন গর্ভগৃহে প্রবেশের জন্য নয়)। সাধারণ লাইনে কোনও টাকা লাগবে না।
আরও পড়ুন:
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১১ মিনিটে কৌশিকী অমাবস্যা তিথি শুরু হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে শেষ হবে। এ বছর কৌশিকী অমাবস্যায় নতুন নিয়মে কী ভাবে ভক্তদের দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়, এখন সে দিকেই নজর সকলের।