অন্নপূর্ণা যোজনার নথি বিকৃতির অভিযোগে শোরগোল পুরুলিয়ায়। শুধু অন্নপূর্ণা যোজনা নয়, রাজ্য সরকারের আরও যে সব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলির নথিও বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি-সহ তিন জন।
বিজেপির অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ব্লক অফিসের তালা খুলে ঢুকে ল্যাপটপে নথি বিকৃত করছিলেন অভিযুক্তেরা। পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক এলাকার ঘটনা। স্থানীয় বিজেপির নেতৃত্বের দাবি, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁর ভাইপো তথা পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় রাতে ব্লক অফিসে অনধিকার প্রবেশ করেন। কৃপাসিন্ধুর সঙ্গে ছিলেন পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ চরণপাহাড়ি দাসও। ঘটনাটি গত ৭ জুলাই রাতের বলে দাবি বিজেপির।
পদ্মশিবিরের দাবি, খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ব্লক অফিসে হানা দেন। হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাঁরা। বিক্ষোভ দেখান। পরের দিন থানায় অভিযোগ দায়েরও হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে সেই দিনই চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কৃপাসিন্ধু এবং চারণপাহাড়ি ছাড়াও ব্লক অফিসের আরও দুই কর্মীকে ধরা হয়। তবে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হয় তাঁদের। এর পর বিজেপি আরও একটি অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতে লাখরা গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় সুজয় এবং কৃপাসিন্ধুকে। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ চরণপাহাড়ি দাসকে পাড়ুই গ্রাম থেকে ধরা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন সুজয়।
আরও পড়ুন:
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি জনপ্রিয় ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের কাছে খবর ছিল দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা (অভিযুক্তেরা) রাতের অন্ধকারে কিছু অবৈধ কাজকর্ম করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। আমাদের অনুমান, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্য উপভোক্তাদের নাম কাটার চেষ্টা করছিলেন।’’ অভিযোগ এবং গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী তথা পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, ‘‘বিষয়টি জানি না, এই শুনলাম। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, খোঁজ নিয়ে দেখব।’’ ধৃতদের রবিবার আদালতে হাজির করানো হবে জানান জেলা পুলিশের এক আধিকারিক।