বক্তব্য জানানোর জন্য চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-র ২০ জন সাংসদ। তবে তাঁদের দু’সপ্তাহ সময় দিলেন লোকসভার স্পিকার। আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে বক্তব্য জানাতে হবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের।
কোন যুক্তিতে তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না, সেই বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন স্পিকার। প্রথমে সাত দিন, দ্বিতীয় দফায় তিন সপ্তাহ এবং তৃতীয় দফায় জবাব দেওয়ার জন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় পেলেন এনসিপিআই সাংসদেরা।
এই প্রসঙ্গে এনসিপিআই সাংসদ কাকলি বলেন, “আমরা এইমাত্র চিঠি পেয়েছি। তাতে দেখছি স্পিকার দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছেন। আমরা সমস্ত কাগজপত্র জোগাড় করছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা স্পিকারের কাছে আমাদের উত্তর পৌঁছে দেব। তবে তার আগে দলের মধ্যে আলোচনা করব।”
মমতা তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট চার সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিল। তবে এর মধ্যে স্পিকারের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণের কথাও ছিল। স্পিকার সেই সময়ের মধ্যে থেকে দু’সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে এনসিপিআই সাংসদদের জবাব দিতেই হবে। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ আমরা পরে জানাব।”
বুধবার ২০ জনের সদস্যপদ খারিজ সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া এই ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলে শীর্ষ আদালত। তবে আদালত কোনও নির্দেশ দেয়নি। কেবল জানিয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০ জনের সাংসদপদ খারিজের জন্য ১৮ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক আবেদন করেছিলেন তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। ওই ২০ জনকে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবেও স্বীকৃতি দেননি। স্পিকারের সিদ্ধান্তে বিলম্বের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।
২৫ অগস্ট ২০ জনকে নোটিস দেয় সুপ্রিম কোর্ট। লোকসভার স্পিকার ও সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়। তার পরেই স্পিকারের তরফে লোকসভার সচিবালয় থেকেও ওই সাংসদদের নোটিস পাঠিয়ে ওই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁদের ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়। কিন্তু ২২ সেপ্টেম্বর সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আরও এক মাস সময় চান সুদীপ-কাকলিরা। তাঁদের সেই আর্জির প্রেক্ষিতে এ বার দু’সপ্তাহ সময় দিলেন স্পিকার।