সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে লোকসভার স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে আরও এক মাস সময় চেয়েছেন তৃণমূল থেকে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। অন্য দিকে, এই এক মাসের মধ্যেই লোকসভার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলি তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা। তৃণমূলের চলতি অচলাবস্থার ফলে এই সাংসদেরা কে কোন কমিটিতে যাবেন, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। বিজেপি এখানে কোনও চাল দেবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
আগামিকাল সুপ্রিম কোর্টে ওই ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের পদ খারিজের মামলার শুনানি রয়েছে। ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদের সাংসদ পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে স্পিকারকে হলফনামা দেওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাল শুনানিতে এনসিপিআইয়ের পক্ষের আইনজীবী থাকবেন। স্পিকার এখনও চিঠির জবাব দেননি বলেই খবর। আগামিকাল শুনানির পরে হয় তো তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারেন। আজ তৃণমূলের লোকসভার উপদলনেতা সৌগত রায় বলেন, “তৃণমূল ছেড়ে চলে যাওয়া অংশটি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির মায়াদয়ার উপরে। এর আগে প্রতীকের ব্যাপারে তারা কমিশনের কাছে তিন বার সময় চেয়েছিল। আবার লোকসভার স্পিকারের কাছে বার বার সময় চাইছে। উদ্দেশ্য একটাই— সময় কাটিয়ে যাওয়া এবং সরকারের করুণার উপর নির্ভর করা।” সংসদীয় কমিটির সদস্যপদ নিয়ে সৌগতের বক্তব্য, “এই ২০ জন এখনও তৃণমূলের নামেই রয়েছেন। এখনও স্পিকার মান্যতা দেননি। মামলাও চলছে।” আর এনসিপিআইয়ের সময় চাওয়া নিয়ে বিজেপিকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর সরস মন্তব্য, ‘‘এনসিপিআই হল বিজেপির ঘরজামাই। তাই ঘরজামাই হিসেবে খাতির করা হচ্ছে।’’
নিয়ম হচ্ছে, কোন কমিটিতে কে যাবেন তা সংসদীয় দলের নেতার কাছ থেকে চাওয়া হয়। কোন কমিটির চেয়ারম্যান কে হবেন তা রাজনৈতিক দলের সংখ্যার অনুপাতে নেতৃত্বই বেছে দেন। তৃণমূলের একটি লোকসভার সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান কীর্তি আজাদ, যিনি তৃণমূলেই রয়েছেন। এখন এই পদ এবং অন্যান্য কমিটির সদস্য কে ঠিক করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেকের পক্ষে এনসিপিআইয়ের বিশ জনের নাম কোনও কমিটিতে প্রস্তাব করা সম্ভব নয়।