দুর্গাপূজা, বাঙালি এবং বিনিয়োগ— একসূত্রে এ ভাবেই শিল্পবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হলদিয়া পেট্রকেমিক্যালসের (এইচপিএল) বিনিয়োগ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বেশ কয়েকটি নতুন বিনিয়োগের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন শিল্পনীতির ইঙ্গিতের সঙ্গে বাম এবং তৃণমূল সরকারের আমলের ‘খামতি’ দূর করার বার্তাওদিয়েছেন শুভেন্দু।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির দেওয়া জমিতে দু’টি বড় বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। প্রথমটিতে ৯৮ একর জমির উপরে নতুন কারখানা গড়বে পেপসি। দ্বিতীয়টিতে ৫০ একর জমির উপরে তৈরি হবে চিকিৎসা যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা। শুভেন্দু জানান, শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন্কার সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। ব্যারাকপুর এবং হলদিয়ায় একটি করে প্লান্ট তৈরি করতে চান শিল্পপতি। এর সঙ্গে আইওসিএল-এর কারখানা তৈরির কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হলদিয়ায় শিল্পের বৃদ্ধি আরও বেশি হবে।” হলদিয়া পেট্রকেমিক্যালসের কর্ণধার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় জানান, একটা সময়ে অনেক বড় শিল্প সংস্থা হলদিয়ায় পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাঁর কথায়, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু আমাকে বলেছিলেন, তুমি যদি এটা না করতে চাও, তাহলে কী করে হবে। বাঙালি যদি বাঙালিকে না দেখে, কে দেখবে? আমার মা-ও বলেছিলেন, কিছু করতে পারলে কর। এটা আমার কাছে একটা অগ্নিপরীক্ষা ছিল।” রাজ্যে ছ’হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সূত্রেই শুভেন্দু পূর্ণেন্দুর উদ্দেশে বলেন, “উনি পশ্চিমবঙ্গের সফল-দরদি এবং আদ্যোপান্ত বাঙালি। এটা আমাদের জন্য সোনালি দিন।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্পনীতির খসড়া মন্ত্রিগোষ্ঠী জমা দিয়েছে। তাতে জমি নীতি এবং শিল্পে উৎসাহ ভাতা, বিদ্যুৎ মাসুলের স্পষ্ট উল্লেখ রাখা হবে। প্রবীণ কর্তাদের একাংশের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে স্পষ্ট জমিনীতি না থাকায় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারিয়েছিলেন। তাঁদের জন্য উৎসাহ ভাতার বার্তা থাকলেও, তা অনেকেই পাননি। পরে শিল্পে উৎসাহ ভাতা প্রত্যাহার করে তৎকালীন সরকার। জানানো হয়, অনুদান দেওয়ার স্বার্থেই তা বাতিল করা হয়েছে।
এ দিন এইচপিএল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সব রকম ভাবে প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে। সরকারের শীর্ষ মহল ছাড়াও জেলা প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্তা এবং পুলিশের উদ্দেশেও এই বার্তা দিয়েছেন তিনি। এই সূত্রে প্রথমে ৩৪ বছর (বাম শাসন) এবং পরের ১৫ বছরের (তৃণমূল শাসন) প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধর্মঘট, গেটে তালা ঝোলানোর সংস্কৃতি আর ফিরবে না রাজ্যে। তোলাবাজি, সিন্ডিকেটের শাসন এবং সংস্থা কর্তৃপক্ষের উপরে চড়াও হওয়ার ঘটনাও সরকার বরদাস্ত করবে না। তাঁর কথায়, “আমরা শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে আত্মনির্ভর ভারতের কথা বলেন, তা কার্যকর হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা— প্রধানত শ্রমিকদের জন্য হলদিয়ায় ৫০ শয্যার আধুনিক ট্রমা সেন্টার তৈরি হবে আগামী বছরের মধ্যে। তাতে হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দিয়েছেন ১৮ কোটি টাকা। আইএসিএল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের খাতে খরচ হয়েছে ৫ কোটি টাকা করে।