E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সর্বত্র জিতব, মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ‘বিরোধীশূন্য’ ডাক

মমতা-তৃণমূল ও বিরোধীদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানের পরেও বলেন, মমতা-সহ বিরোধীদের ‘বৌনি’ (খাতা খোলা) করতে দেবেন না।

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৪৩
বিজেপির নতুন জেলা কার্যালয়ের ভূমি পুজো অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তমলুকে।

বিজেপির নতুন জেলা কার্যালয়ের ভূমি পুজো অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তমলুকে। —ফাইল চিত্র।

হলদিয়া পুরসভাতেও বিরোধীশূন্য বোর্ড গড়ার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এর পরে পুরসভা, পঞ্চায়েত-সহ সব নির্বাচনেই বিজেপির জয় সময়ের অপেক্ষা এবং তাঁদের ভোট ৬০% পেরিয়ে যাবে। মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে এবং হলদিয়ার পুরভোট সামনে রেখে বিরোধীশূন্য করার ডাক দিলেও, মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে পাল্টা সরব হয়েছে বিরোধীরা। মমতা-তৃণমূলের কটাক্ষ, ‘গণতন্ত্রের বিনাশ’ এখন সরকারি কর্মসূচি! মুখ্যমন্ত্রী মমতাও বিরোধীশূন্য পুরসভা ও পঞ্চায়েত চাইতেন এবং তার পরিণতি কী হয়েছে, সে কথা শুভেন্দুকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সিপিএম ও কংগ্রেস।

তমলুকে দলের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে হলদিয়া পুরভোট। আমি দু-এক দিনের মধ্যে বসব।” বিজেপিকে জেতাতে সর্বশক্তি প্রয়োগের ডাক দিয়ে তাঁর মন্তব্য, “তিরিশটি আসনেই একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাতে হবে খালি হাতে!”

মমতা-তৃণমূল ও বিরোধীদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানের পরেও বলেন, মমতা-সহ বিরোধীদের ‘বৌনি’ (খাতা খোলা) করতে দেবেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিধানসভায় আমরা রাজ্যে ৪৬% ভোট পেয়েছি। পূর্ব মেদিনীপুরে ৫৬%। পরবর্তী সব নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে ৬০% ভোট পেয়ে জিতবে। বসিরহাটে যদি উপনির্বাচন হয়, সেখানেও প্রমাণ হবে যে, মানুষ বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রয়েছেন।’’ শুভেন্দুর আরও তোপ, ‘‘‘বিশ্ববাংলা’ ভাষাটা কী? এটা একটা প্রদেশ। এখানে বিশ্ববাংলা জুড়ে দেওয়ার মানেটা কী? জয় বাংলা তো বাংলাদেশের স্লোগান!’’ রবিবারই মমতা বলেছিলেন, ‘বিশ্ববাংলা’র ‘ব্র্যান্ডিং’ তাঁর করা, তাকে এই ভাবে মোছা যাবে না।

মমতা-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ পাল্টা বলেন, ‘‘এটা ভোটের আগেই পুলিশ ও প্রশাসনকে নামিয়ে ভোট সেরে ফেলার প্রক্রিয়া। সারা দেশেই বিজেপি তা করছে।’’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘আগের মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীশূন্য পঞ্চায়েত, পুরসভা চাইতেন। এই মুখ্যমন্ত্রী তখন তাঁর সৈনিক ছিলেন। এখন নিজে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আরও বাড়াবাড়ি করতে চাইছেন! ওঁর পূর্বসূরির কী পরিণতি হয়েছে, সেটা মনে রাখা উচিত।’’ প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীও বলেন, ‘‘মমতার নেতৃত্বে উনি (শুভেন্দু) মালদহ, মুর্শিদাবাদে এই কাজই করেছিলেন। এই রাজনীতির পরিণাম কী হয়, দেখা যাচ্ছে।’’

কলকাতায় এ দিন পুরভোটে বিজেপির প্রার্থী-পদের জন্য ড্রপবক্সে আবেদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। শুভেন্দু লক্ষ্মীপুজোর দিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি যাওয়ার পরে তৈরি হয়েছে জল্পনাও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য, ‘‘বিজেপি সব সময় একা লড়েছে। আমরা যখন বিজেপি করা শুরু করি, তখন দলের ভোট ছিল ১%! কর্মীদের জন্যই বিজেপি এই জায়গায় এসেছে। কংগ্রেসিদের হাতে শ্যামাপ্রসাদের রক্ত লেগে আছে! সেই হাত ধরতে গেলে একটু চিন্তাভাবনা করতে হয়!’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Haldia Tamluk

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy