রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে শিল্পের হাল ফেরানোর চেষ্টা শুরু করেছে নতুন সরকার। বৈঠক করেছে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে। আদানিদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এ বার রাজ্যে শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে অম্বানীদের সঙ্গেও আলোচনা করলেন তিনি। কথা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের বিষয়েও।
শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীর পুত্র অনন্তের গণেশপুজোয় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে। সেই আমন্ত্রণে সোমবার মুম্বইয়ে মুকেশের ‘অ্যান্টিলিয়া’য় গিয়েছিলেন তিনি। কালীঘাটের মা কালীর মূর্তির একটি প্রতিরূপও তিনি উপহার দেন অম্বানীদের। শুভেন্দু-অম্বানীর সাক্ষাতে যে রাজ্যের শিল্পের বিষয়টিও উঠে আসবে, তা অনুমান করছিলেন অনেকেই। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি।” তিনি আরও জানান, বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আমাদের রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ এলে তা রাজ্যের যুবসমাজের পাশাপাশি অর্থনীতিকেও যে চাঙ্গা করবে, সে কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। পরে কোচবিহারে গিয়ে অম্বানি-সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ‘‘অম্বানির পরিবারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডিনার করেছি। বাংলায় অনেক বিনিয়োগ হবে।’’
তৃণমূল জমানার গত দেড় দশকে রাজ্যে কোনও ভারী শিল্প আসেনি। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পবিমুখ ভাবমূর্তি বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন সরকার। কিছু শিল্প পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের উদ্যোগও দেখা গিয়েছে গত কয়েক মাসে। এ অবস্থায় অম্বানীদের সঙ্গে শুভেন্দুর শিল্প-আলোচনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:
গত জুন মাসে গৌতম আদানির পুত্র তথা আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম কর্তা করণ আদানির সঙ্গে নবান্নে বৈঠক হয় মুখ্যমন্ত্রীর। তার পর পরই জানা যায়, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনে ২০০০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি করছে আদানি গোষ্ঠী। কোচবিহারে গিয়ে সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আদানি হাসপাতালের ভূমিপুজো দু’দিন বাদেই হবে।’’
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের শিল্পায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু। ডানকুনি থেকে পুরুলিয়ার মতো বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে একাধিক শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতার গার্ডেনরিচ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা উৎপাদন সংক্রান্ত প্রকল্পেরও ঘোষণা হয়েছে।