শুক্রবার বক্সায় রাজ্যের প্রথম ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কর্মসূচির সূচনা হল। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্রপ্রকল্প থেকে আনা তিন বছরের রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনিকে বক্সার জঙ্গলের বিশেষ প্রাকৃতিক ঘেরাটোপে মুক্তি দেওয়া হল। এ দিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।
বিহারের জঙ্গল থেকে সড়কপথে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর, সেখান থেকে বিশেষ বিমানে আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা হয়ে বক্সায় পৌঁছোয় বাঘিনি। দীর্ঘ যাত্রার ধকলের কারণে বক্সায় পৌঁছোনোর পর প্রথম দিন বিশ্রামে কাটায় সে।
বন দফতর জানিয়েছে, ডুয়ার্সের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ঘেরাটোপের ভেতরের জলাশয়ে নেমে তাকে স্নান করতেও দেখা গিয়েছে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে সে যে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে, গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়া তার এই সাবলীল চলাফেরা দেখেই তা নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞেরা।
শুক্রবার বাঘিনিটিকে সরাসরি গভীর
জঙ্গলে না ছেড়ে, একটি প্রাকৃতিক ঘেরাটোপে ছাড়া হয়েছে
(সংরক্ষণের পরিভাষায়, ‘সফ্ট রিলিজ়’)।
সেখানে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে তার শিকার করার ক্ষমতা এবং গতিবিধি নিবিড় ভাবে
পর্যবেক্ষণ করা হবে। সব কিছু সন্তোষজনক হলে পরবর্তী ধাপে তাকে সম্পূর্ণ মুক্ত
জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।
২০১৮ সালের পর ২০২১ সালের ডিসেম্বর, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বক্সার জঙ্গলে বসানো
ট্র্যাপ ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে,
এগুলি কোনও স্থায়ী বাঘ ছিল না। বাঘগুলি প্রতিবেশী দেশ ভুটান
অথবা অসমের মানস জাতীয় উদ্যান থেকে সীমানা পার হয়ে বক্সার জঙ্গলে সাময়িক ভাবে
যাতায়াত করছিল। তাই বক্সায় এই নতুন সদস্যের
আগমন তাৎপর্যপূর্ণ।
বক্সায় বাঘের বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বন দফতর। জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রাথমিক ভাবে একটি পুরুষ এবং দু’টি বাঘিনি আনার কথা রয়েছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে অন্য রাজ্য থেকে আরও অন্তত ছ’টি বাঘ নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্যের। এই কর্মসূচি সফল হলে বক্সার বাস্তুতন্ত্রের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পেও নতুন জোয়ার আসবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।