৫৫টি আবাসনে ৫০০-৬০০ ফ্ল্যাট। প্রায় ন’বছর ধরে একের পর এক আবাসন তৈরি হয়েছে এবং সেখানে বসবাস করছেন আবাসিকেরা। পুরসভার জলের সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে সিইএসসি। কিন্তু ওই সব আবাসনের ফ্ল্যাট বিক্রি এবং কেনার নথিপত্র কার্যত নেই।
আরও অনেক কিছু নেই বলে সিবিআইয়ের দাবি। যেমন দলিল নেই। পুরসভার ছাড়পত্র নেই। কোনও নামপত্তন (মিউটেশন) হয়নি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে দেখা যাচ্ছে আবাসিকদের কোনও রকম পুর-কর দিতে হয় না। অভিযোগ, যা চলছে সম্পূর্ণ বেআইনি ব্যবস্থা। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই সব আবাসনে জল ও বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি একটি জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে হাই কোর্ট মানিকতলা, বেলেঘাটা, এন্টালি এলাকায় ৫৫টি আবাসনের নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিবিআইকে অনুসন্ধান রিপোর্ট পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশের পরই সিবিআইয়ের তদন্তকারী চারটি দল অনুসন্ধান শুরু করেছে। তাতে উঠে এসেছে বিস্ময়কর সব তথ্য। ওই সব আবাসনের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, প্রতিটি ফ্ল্যাট কী ভাবে হাত বদল হল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোন নথির ভিত্তিতে ওই সব আবাসনে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে তা জানতেও পুরসভা এবং সিইএসসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের কথায়, “অদ্ভুত পরিস্থিতি। কারা ওই সব ফ্ল্যাটের বিক্রেতা? জিজ্ঞাসাবাদে নানা ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে।’’ ওই সব আবাসন তৈরিতে প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ওই টাকার উৎসের বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয় বলেও সিবিআই সূত্রের দাবি।
তদন্তকারীদের কথায়, ২০১৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ওই সব আবাসন তৈরি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্র পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ওই সব আবাসনের নির্মাণকারী সংস্থা অথবা নির্মাণকারীর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ওই সব ফ্ল্যাটের আবাসিকদের পরিবারের কর্তাদের লিখিত বয়ান নেওয়া হচ্ছে। পরে পুরসভা এবং সিইএসসির বক্তব্যের পাশাপাশি আবাসিকদের লিখিত বয়ান খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করে আদালতে পেশ করা হবে।