লোকসভায় আদি তৃণমূলের ভাঙন আপাতত সম্পূর্ণ। কাগজপত্রে সইসাবুদের প্রক্রিয়া শেষ হলেই এনসিপিআই-এর কুড়ি জন সাংসদ বাদল অধিবেশনে নিজেদের চিহ্নিত আসনে এনডিএ-র সঙ্গে বসবেন। কিন্তু তৃণমূলের রাজ্যসভার ভাঙন ক্রমশ প্রকাশ্য মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফা দিয়ে শুরু। তার পরে সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পরে গত কাল ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক। তার পরেই তিনি বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করে বুঝিয়ে দিলেন তাঁর রাজনৈতিক অভিমুখ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এর পরেও রাজ্যসভা সাংসদদের মধ্যে আরও কিছু উইকেট পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষ, সামিরুল ইসলাম, নাদিমুল হকের দল ছাড়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বাকিদের কারও কারও সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ তৈরি হয়েছে বা আগে থেকেই রয়েছে, খবর সূত্রের। কোয়েল মল্লিকের মতো আরও কেউ শপথ নেওয়ার পরে এক দিনের জন্যও অধিবেশনে যোগ না দিয়েই পদত্যাগ করতে পারেন, চর্চা দিল্লিতে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়ার সংখ্যাটা ৭ পর্যন্ত হতে পারে।
৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী, প্রাক্তন পুলিশকর্তা রাজীব কুমার, গায়ক ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে শপথ নেন কোয়েলের সঙ্গে। চর্চায় তাঁদের নাম রয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে ইস্তফা নয় কেন? বিধানসভায় কোন দলের কত আসন, তার উপরে নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দল কত জন রাজ্যসভার সাংসদ পাবে। এখন যদি চার জন সাংসদ একসঙ্গে ইস্তফা দেন, তা হলে তিনটি আসন বিজেপি পেলেও, একটি আসন তৃণমূলের কাছে যাবে। কারণ, তাদেরও ৮০ জন বিধায়ক আছে। সেই আসন মমতাপন্থী তৃণমূল নেবে, নাকি ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল, তা অন্য প্রশ্ন। কিন্তু রাজ্যের বিরোধীদের হাতে যাতে একটিও আসন না যায়, সে জন্যই এই কৌশল বিজেপির— এমনটাই মনে করা হচ্ছে।তাই এক এক দফায় তিন জনের ইস্তফা এবং রাজ্যসভারউপনির্বাচন করা হচ্ছে।