বাবার মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪২ বছর আগে। এত দিনে পারিবারিক পেনশন পেলেন অবিবাহিতা মেয়ে। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি অমৃতা সিংহের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যে ১৯৮১ সালে ‘ডেথ অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট স্কিম’ চালু হওয়ার আগেও কেউ অবসর নিলে বা মারা গেলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে কলকাতা হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ রায় দিয়েছে। এই ধরনের মামলায় সেই রায় মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। ১৬ সপ্তাহে মামলাকারীকে পারিবারিক পেনশন দিতে নির্দেশ দেন বিচারপতি সিংহ।
দমদম গোরাবাজারের বাসিন্দা মিনু দাস পারিবারিক পেনশন চেয়ে এই মামলা করেছিলেন। তাঁর আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত এবং সুতীর্থ নায়েক জানান, মিনুর বাবা পরেশচন্দ্র দাস স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৭৫ সালে অবসর নেন। ১৯৮৪ সালে মারা যান। অবিবাহিত মেয়ে হিসেবে পারিবারিক পেনশন পাওয়ার জন্য নানা জায়গায় তদ্বির করেন মিনু। ২০১৯ সালে পরেশচন্দ্র যে স্কুলে চাকরি করতেন তার প্রধান শিক্ষক মিনুকে বাবার চাকরি সংক্রান্ত তথ্য দেন। নানা টালবাহানার পরে মিনুর জমা দেওয়া নথি স্কুল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেন। কিন্তু তার ভিত্তিতে পেনশন দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ করেননি। তার পরেই হাই কোর্টে মামলা করেন মিনু। মিনুর আইনজীবীদের বক্তব্য, ‘‘অবিবাহিত, বিধবা বা বিবাহবিচ্ছিন্না মেয়ে পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু নানা কারণ দেখিয়ে তা দেওয়া হয়নি।’’ সরকার কোর্টে দাবি করে, ১৯৮১ সালে অবসর নিলে এই সুযোগ পাওয়া যাবে না। সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে কোর্ট।