বামেদের বইয়ের বিপণিতে হামলা, অশান্তির বিস্তর অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বের তা নিয়ে বিভিন্ন সুর শোনা গেল গোটা পুজো জুড়েই। দশমীর দিন, বুধবারও তার অন্যথা হল না। এরই মধ্যে সিপিএমের বই-বিপণিতে হামলার অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি, বামেদের বই-বিপণিতে হামলাকে ‘অনভিপ্রেত’ বলেছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের শেরপুরে সিপিএমের বইয়ের বিপণিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে বিশ্বজিৎ গায়েন নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নবমীর দিন বিকেলে স্টলে হামলার সময়ে পরিস্থিতির সামাল দিতে গিয়ে জখম হয়েছেন এক পুলিশ-কর্মীও। সিপিএমের দাবি, ধৃত বিশ্বজিৎ বিজেপি কর্মী। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সত্যসেবী করের দাবি, “হামলায় বিজেপি যুক্ত। হামলার পরেও রাত ১০টা পর্যন্ত বই-বিপণি খোলা ছিল। রেকর্ড সংখ্যক বই বিক্রি হয়েছে।” অন্য দিকে, ঘটনায় দলের যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
এই আবহে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পরে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বই-বিপণিতে হামলাকে ‘অনভিপ্রেত’ বলেছেন। শঙ্করের বক্তব্য, “যাঁরা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁদের আমি কোনও ভাবেই সমর্থন করি না। অপ্রাসঙ্গিক একটি দলের বই বিপণিকে এই ভাবে প্রচারের আলোয় না-আনা হলেই ভাল হত।” পক্ষান্তরে, সিপিএম নেতা শরদিন্দু চক্রবর্তী পাল্টা বলেছেন, ‘‘বিতর্ক শুরু হতেই মন্ত্রী এখন নিজেদের অপরাধ লুকোতে বামেদের অপ্রাসঙ্গিক বলছেন!”
বই-বিপণিতে হামলা নিয়ে এ দিনও সরব থেকেছে এসইউসি। দলের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য বলেছেন, “বাম দলগুলির বই-বিপণিতে হামলা পুজোর শেষ পর্বেও চলছে। হলদিয়ার চৈতন্যপুর-সহ নানা জায়গায় ভয় দেখাতে চেয়েছে বিজেপি, আরএসএস। তবে হামলা অগ্রাহ্য করে মানুষ নজিরবিহীন উৎসাহে বই কিনেছেন। এখনও পর্যন্ত, গত বছরের তুলনায় ৪০-৫০ শতাংশ বেশি অর্থের বই বিক্রি হয়েছে।”
সিপিএমেরও দাবি, পুলিশি হুমকি সত্ত্বেও পুজোর পাঁচ দিন ধরেই বিপণি চলেছে বাইপাসের ধারে। এ ছাড়া বরানগর, মেটিয়াবুরুজ, পশ্চিম মেদিনীপুরের বিড়া, পুরুলিয়ার মণিহারা, নদিয়ার পলাশি, কৃষ্ণনগর-সহ নানা জায়গায় এ দিনও সিপিএমের বই বিপণি চলেছে। বেহালার শীলপাড়ায় খোলা আকাশের তলায়, দাসপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ বই বিপণি হয়েছে। সিপিএম সূত্রে দাবি, ভবানীপুরে একটি বই বিপণি থেকে পাঁচ দিনে ১১ হাজার ৩৪৫ টাকার বই এবং ৪৫টি শারদ-সংখ্যা বিক্রি হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্তের দাবি, যাদবপুরের যে বিপণি বুলডোজ়ার দিয়ে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, সেখানে মঙ্গলবার পর্যন্ত বই বিক্রির অঙ্ক বেড়ে হয়েছে মোট ১৪ লক্ষ টাকা।