সিপিএমের বইয়ের স্টল নিয়ে মামলায় পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এ বার ডিভিশন বেঞ্চে গেল রাজ্য সরকার। রাজ্যের বক্তব্য, যে জায়গায় সিপিএম দুর্গাপুজোর সময় বইয়ের স্টল বসাতে চাইছে, সেটি পূর্ত দফতরের। তা নিয়ে পুলিশ রিপোর্ট দিতে পারে না। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল দিতে চায় সিপিএম। অভিযোগ, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় ওই জায়গাতেই তারা স্টল বসায়। কিন্তু হঠাৎ এ বছর অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে বুধবার সেই মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি জানতে চান, কোনও রাজনৈতিক দল বইয়ের স্টল বসাতে চাইলে সমস্যা কোথায়? বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর যেন দমিয়ে না দেওয়া হয়, সে দিকে নজর রাখতে বলেছেন বিচারপতি। সিপিএমের অভিযোগ, তারা অনুমতি না পেলেও অন্যেরা সেখানে বইয়ের স্টল দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। এর পরেই বিচারপতি পুলিশকে রিপোর্ট দিতে বলেন। জায়গাটিতে কারা বইয়ের স্টল দিচ্ছে, অনুমতি আছে কি না, জানতে চান তিনি। কিন্তু বিচারপতি ভট্টাচার্যের এই মামলা শোনার এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য।
আরও পড়ুন:
অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র জানান, জায়গাটি পূর্ত দফতরের। কিন্তু সিপিএম তাদের কাছে কোনও অনুমতি চায়নি। অনুমতি চাওয়া হয়েছে মহকুমাশাসকের কাছে। তা ছাড়া, এই মামলা পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত নয়। তাই হাই কোর্টের রোস্টার অনুযায়ী এই মামলা শুনতে পারেন না বিচারপতি ভট্টাচার্য, জানান রাজ্যের আইনজীবী। ডিভিশন বেঞ্চেও সেই যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য বুধবার এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর বক্তব্য, স্টলের জায়গাটি পূর্ত দফতরের। কিন্তু তাদের কাছে রিপোর্ট না-চেয়ে সিঙ্গেল বেঞ্চ পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। প্রধান বিচারপতি মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।