Advertisement
E-Paper

খুঁজে পাওয়া ৬৬৯ দেহের মধ্যে শনাক্ত মাত্র ২০টি! ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে বাকিগুলি গণকবর, জরুরি নির্দেশ জারি নেপালে

অধিকাংশ দেহেই পচন ধরেছে। বেশি দিন রেখে দিলে তা এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে কাঠমান্ডু।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ অগস্ট ২০২৬ ০৭:৫৯
কাদামাটির ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে, পাথর সরিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। নেপালে।

কাদামাটির ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে, পাথর সরিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। নেপালে। ছবি: রয়টার্স।

নেপালের ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত ৬৬৯টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে শনাক্ত করা গিয়েছে মাত্র ২০টি দেহ। সেগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অশনাক্ত দেহ আর বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারবে না নেপাল সরকার। তাই গণকবরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশিকাও জারি করেছে নেপাল সরকার।

নেপাল পুলিশের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল অবি নারায়ণ কাফলে জানান, ৬৬৯টি দেহের মধ্যে ২১১টি দেহই বিকৃত। চোখে দেখে তা শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দেহও পাওয়া যায়নি। মিলেছে আংশিক বা ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। এগুলি জল এবং পুরু কাদার আস্তরণের নীচে দুই থেকে তিন দিন চাপা পড়ে ছিল। পুলিশ এই সমস্ত দেহ এবং দেহাংশ পরিষ্কার করে, প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করছে এবং বিস্তারিত ছবি তুলে রাখছে। তবে অধিকাংশ দেহই বানের তোড়ে অনেক দূরে ভেসে গিয়েছে। তাই শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

নেপালের হাসপাতালের মর্গগুলিতে এত দেহ একসঙ্গে সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থা নেই। যেখানে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৫০টি দেহ রাখা যায়, সেখানে ২০০-৩০০ দেহ এসে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত বা নির্মীয়মাণ ভবন দেহ সংরক্ষণের কাজে সাময়িক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ দেহেই পচন ধরেছে। বেশি দিন রেখে দিলে তা এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে কাঠমান্ডু। এই ধরনের পরিস্থিতিতে অশনাক্ত ও দাবিদারহীন দেহ নিয়ে কী করতে হবে, নির্দেশিকায় তা বলা আছে।

নেপাল পুলিশ আইনের ২২(এ) ধারা অনুযায়ী জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে বলেন্দ্র শাহের সরকার। সাধারণ পরিস্থিতিতে অশনাক্ত দেহ কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয় বা স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি তার শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করে। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দাবিদারহীন মৃতদেহে যদি মর্গ ভরে ওঠে, নিরাপত্তা বাহিনী ও জেলা কর্তৃপক্ষ সেগুলির তথ্য ও নথি সংরক্ষণ করে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এর ভিত্তিতেই অশনাক্ত দেহগুলির ডিএনএ নমুনা এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন।

আইন অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত প্রতিটি দেহের একটি করে স্থায়ী শনাক্তকরণ নম্বর থাকা আবশ্যিক। সেই সঙ্গে গয়না, নগদ, জামাকাপড় ও অন্যান্য তথ্য কিছু পাওয়া গেলে ওই নম্বরের অধীনেই তা সংরক্ষণ করতে হবে। যদি ভবিষ্যতে কখনও কারও পরিবারের সদস্য প্রিয়জনের খোঁজ করতে আসেন, ওই নমুনার সঙ্গে তাঁর তথ্য মিলিয়ে দেখা যাবে এবং যাঁকে খুঁজতে এসেছেন তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না নিশ্চিত করা যাবে।

সংক্ষেপে
  • ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
  • বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
  • হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
Flash flood Nepal Kathmandu Mass Burials

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy