ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা এখনই বন্ধ করছে না— সমাজমাধ্যমে এমন এক ‘ভুয়ো’ দাবি ঘিরে সম্প্রতি শোরগোল পড়ে যায় মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যমে। এমনকি রাষ্ট্রপুঞ্জে মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ় ওই দাবির কথা তুলে ধরেন। পরে জানা যায়, সেটি ‘ভুয়ো’ দাবি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত থেকে পরিচালিত এক বেনামি সমাজমাধ্যম হ্যান্ডল থেকেই ওই ‘ভুয়ো’ দাবিটি ছড়ানো হয়েছিল।
দাবি করা হচ্ছে, গত ৫ অগস্ট এক বেনামি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পোস্টটি করা হয়। সেখানে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদির কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ভাহিদি দাবি করেছেন, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হাতে যত দিন পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে, তত দিন ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা ছাড়বে না। পোস্টটির সঙ্গে জেনারেল ভাহিদির একটি ছবি শেয়ার করা হয়। কৃত্রিম মেধার সাহায্যে তৈরি করা বিস্ফোরণের পর আগুনের কুণ্ডলীর একটি গ্রাফিকও যুক্ত করা হয় ছবিতে।
নিমেষে তা ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলে। যদিও ইরানি সেনা কমান্ডার বলছেন ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে— এমন দাবিরও কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। যাচাই না করা ওই দাবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রচারিত হয়। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম এটিকে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার ‘প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি’ বলেও বর্ণনা করে। ওই পোস্টের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেরুসালেমে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাষণেও উঠে আসে এই ঘটনার প্রসঙ্গ। পরে রাষ্ট্রপুঞ্জে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ় এবং ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সেনেটর রিক স্কটও এই একই দাবি করেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, জেনারেল ভাহিদিকে উদ্ধৃত করে বেনামি অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্টটি কে করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ওই বেনামি অ্যাকাউন্টটির ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ফলোয়ার ছিল। বিষয়টি এমন ভাবে প্রচার করা হয়েছিল যা গোটা বিশ্বে রাজনৈতিক মহল এবং বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল। ভুয়ো তথ্য কী ভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, তারও একটি উদাহরণ এই পোস্টটি।
আরও পড়ুন:
দাবি করা হচ্ছে, প্রথম পোস্টটির দু’ঘণ্টার মধ্যে অপর একটি ভারতীয় অ্যাকাউন্ট থেকে বিষয়টি আবার পোস্ট করা হয়। এ বার হিন্দিতে। দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টটির ফলোয়ার ছিল প্রায় ৮২ হাজার। তারও পরে ‘মোসাদ কমেন্টারি’ নামে একটি অ্যাকাউন্টও ওই একই দাবি পোস্ট করে। ‘মোসাদ কমেন্টারি’ নামে অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে ইজ়রায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের কোনও যোগ নেই। এর পরে ইজ়রায়েলি এক সংবাদমাধ্যম ওই দাবিটি সম্প্রচার করে, যার জেরে বিষয়টি আরও ছড়িয়ে পড়ে।
যদিও ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, এই সব পোস্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেইয়ের অভিযোগ, এ সবের নেপথ্যে ইজ়রায়েলের হাত থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও প্রমাণ দেননি তিনি।