ব্রড পিক (৮০৫১ মিটার) অভিযানে গিয়ে ভয়াবহ তুষারধসের মুখে পড়ে তলিয়ে গেলেন বিখ্যাত নেপালি পর্বতারোহী এবং ব্রিটিশ রয়্যাল ফোর্সের প্রাক্তন সদস্য নির্মল পূরজা (৪৩) ও তাঁর আরও ৯ জন সঙ্গী। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে গোটা দল। শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হলে চার জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। পূরজা-সহ বাকিরা এখনও নিখোঁজ। তবে তাঁদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে।
২০১৯ সালে ৬ মাস ৬ দিনের মধ্যে ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গে বিনা অক্সিজেন সিলিন্ডারে আরোহণ করে সাড়া ফেলেছিলেন পূরজা। সে বছরই কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়ে বিপদে পড়া দুই বাঙালি অভিযাত্রী বিপ্লব বৈদ্য এবং কুন্তল কাঁড়ারকে নীচে নামিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টাকরেছিলেন পূরজা।
বৃহস্পতিবার রাতেই খবর এসেছিল, পাকিস্তানের গিলগিট-বালটিস্তানের ব্রড পিকে ৬০০০ মিটারের কাছাকাছি উচ্চতায় অভিযাত্রী দল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ক্যাম্প-২ থেকে ক্যাম্প-৩-এর দিকে এগোতে থাকা পূরজা ও তাঁর দলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। নেপালের তিনটি বড় আয়োজক সংস্থা— এলিট এক্সপেড, সেভেন সামিটস এবং ইমাজিন নেপালের উদ্যোগে এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন পূরজা। দলে পাকিস্তান, ওমান, আমেরিকা, চিন এবং নেপালের আরোহী ও শেরপারা ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা জিপিএস ট্র্যাকারের সিগন্যাল দেখাচ্ছে, এ দিন সকাল ৮টা ৫৭ মিনিট ও ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আমেরিকান পর্বতারোহী ম্যালোরি গেইসের ট্র্যাকার অনুযায়ী, তিনি নিমেষে ৫৪৩ মিটার নীচে ছিটকে পড়েন। অন্য ট্র্যাকার বলছে, ওমানের নাধিরা আল হারথি এক ধাক্কায় ১৬৫১ মিটার নীচেপড়ে যান!
উদ্ধারে যুক্ত ‘অ্যালপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান’-এর সেক্রেটারি জেনারেল আয়াজ আহমেদ বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেনেছি। শুক্রবার সকাল থেকে দু’টি সেনা কপ্টার উদ্ধারে নামে। দু’জনের দেহ এবং এক জনের একটি পা উদ্ধার করে স্কার্দু নিয়ে আসা হয়েছে। দেহাংশের ডিএনএ পরীক্ষা হবে। শনিবার ফের অভিযান হবে।’’ ‘সেভেন সামিটস’-এর কর্ণধার মিংমা শেরপা বলেন, ‘‘দুর্ঘটনার পরে অনেকটা সময়ও পেরিয়ে গিয়েছে। নিখোঁজদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এক শতাংশেরও কম।’’ যদিও দুর্ঘটনার কথা জানাজানি হতে কেন ১০-১২ ঘণ্টা লাগল, সেই প্রশ্ন তুলে এভারেস্টজয়ী দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ‘‘বেসক্যাম্পে প্রতিটি দলের কর্মী ছিলেন। তবু কারও নজরে আসেনি!’’