ভারত-মার্কিন প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা নিয়ে বুধবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো-র সঙ্গে বৈঠক করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় ওই বৈঠকের পরেই ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তির খুঁটিনাটি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, বৈঠকে বাণিজ্য, শুল্ক, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন জয়শঙ্কর ও রুবিয়ো।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট (আসিয়ান) এবং ‘কোয়াড’ বিদেশমন্ত্রী সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমাদের বৈঠকে ভারত-আমেরিকা আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল বাণিজ্য ও শুল্ক, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আমরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয়েও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেছি।’’ অন্য দিকে, রুবিয়ো এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘‘আমরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়, কোয়াড, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি।’’ মার্কিন বিদেশ দফতর একটি পৃথক বিবৃতিতে লিখেছে, ‘‘গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর বৈঠকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রুবিয়ো এবং জয়শঙ্কর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। দু’জনেই অন্তর্বর্তিকালীন বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন, যা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের এভ্যাঁ-লে-ব্যাঁ শহরে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের এক মাসেরও বেশি সময় পরে জয়শঙ্কর-রুবিয়ো বৈঠক হল।
গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-সমঝোতার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এর পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-সমঝোতার কথা জানান। এর পরে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল মার্কিন বিদেশসচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছিলেন, মার্চ মাসে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হবে। কিন্তু গত ২০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইনকে হাতিয়ার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নতুন আন্তর্জাতিক শুল্পনীতি প্রণয়ন করেছিলেন, তা অবৈধ। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের একক ভাবে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার নেই বলেও জানিয়েছিল সে দেশের শীর্ষ আদালত। ফলে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তির আইনি খসড়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদীর ওয়াশিংটন সফরের পর থেকে দু’দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। শুল্ক ঘিরে জটিলতার মাঝে তা থমকেও ছিল। পরে আবার তা শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় দু’দেশের মধ্যে তা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এখনও চূড়ান্ত হয়নি চুক্তির খসড়া।