Advertisement
E-Paper

তেল পরিবহণে প্রণালী-নির্ভরতা কমাতে চায় পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি! মার্কিন সহায়তায় তৈরি হচ্ছে বিকল্প পরিকাঠামো

আমেরিকা-ইরান সংঘাতে হরমুজ় দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের তেলবাহী ট্যাঙ্কারে সাম্প্রতিক হানাদারির জেরে বার এল-মান্দেব প্রণালী দিয়েও কমছে জাহাজ চলাচল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:১৩
Amid US-Iran conflict West Asian countries want to reduce dependence on waterways for oil transport

তেল পরিবহণে বিকল্প কৌশল আমেরিকার। —ফাইল চিত্র।

আর প্রণালী-নির্ভর তেল পরিবহণ নয়। সংঘাতের আবহে এ বার পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার মিত্র দেশগুলির তেল পরিবহণ পদ্ধতিতেই আমূল বদল আনতে চলেছে।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএন প্রকাশিত রিপোর্ট জানাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী আন্তর্জাতিক জলপথ হিসাবেই থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই জলপথ ইরানের হাতে চলে গেলে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার ট্রানজ়িট ফি আদায়ের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও পেয়ে যাবে নিহত আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দেশ। যুদ্ধের আগে প্রতি দিন প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগরক্ষাকারী হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হত। ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরিনের প্রায় সব জ্বালানি রফতানির প্রধান পথ ছিল এটি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জ্বালানি রপ্তানিরও গুরুত্বপূর্ণ রুট ছিল হরমুজ়।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বার বার হরমুজ় দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যহত হচ্ছে। ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তেলবাহী জাহাজে সাম্প্রতিক হানাদারির জেরে লোহিত সাগর-এডেন উপসাগর-আরব সাগরের সংযোগ রক্ষাকারী বার এল-মান্দেব প্রণালী দিয়েও কমছে জাহাজ চলাচল। এই আবহে সৌদি আরব তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত দেশের ভেতর দিয়ে একটি পূর্ব-পশ্চিম (ইস্ট-ওয়েস্ট) পাইপলাইন নির্মাণে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। প্রকাশিত খবরে দাবি। সাম্প্রতিক সংকটের সময় এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে। সৌদি আরব ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ পাইপলাইনটির পরিবহণ ক্ষমতা আরও ২০ লক্ষ ব্যারেল বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

হরমুজের দক্ষিণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি বন্দর ও পাইপলাইন রয়েছে, যার মাধ্যমে বর্তমানে প্রতি দিন সর্বোচ্চ ১৮ লক্ষ ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। দেশটি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই সক্ষমতা দ্বিগুণ করে ৩৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার জন্য সম্প্রসারণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইরাকের নতুন আলি আল-জাইদি গত ১৪ জুলাই হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে ইরাকের কিরকুক থেকে তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর জেইহান পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনটির অশোধিত তেল পরিবহণ ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, জর্ডনে নতুন একটি তেল পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা কার্যকরি করতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরাক সরকার। এই পাইপলাইন ইরাকের বসরা থেকে হাদিথা পর্যন্ত যাবে। সেখান থেকে একটি শাখা লাইন জর্ডনের আকাবা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর পর লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রফতানি করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি ফৌজ হামলা শুরু করার পরে হরমুজ় প্রণালী অবরোধ করেছিল ইরান। গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েসকিয়ান যুদ্ধবিরতি সমঝোতা করার পরে সাময়িক ভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পরেই তার প্রভাব পড়েছে নৌ চলাচলে। ইরান দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের নির্ধারিত শর্তে চলাচল না করলে তারা হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে তারা সক্ষম। একই সক্ষমতা দেখিয়েছে সৌদির পড়শি দেশ ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিও। আমেরিকা এবং তাদের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলি পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের পরিপন্থী মনে করছে। আর সে কারণেই নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করতে চলেছে তারা।

US-Iran War West Asia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy